আওয়ার ইসলাম: চিকিৎসাসেবা না দিয়ে সাধারণ রোগীদের ফেরত পাঠানোর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অভিযোগ তদন্ত করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার করোনাকালে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ, আইসিইউ বণ্টন, বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ, চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে দাখিল করা পৃথক ছয়টি রিট আবেদনের ওপর শুনানি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ মোট পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে : ১. বিনা চিকিৎসায় রোগী ফেরতের ঘটনায় দায়েরেকৃত রিটের অভিযোগগুলো তদন্ত প্রতবেদন ২১ জুলাইয়ে মধ্য হাইকোর্টে দাখিল করতে হবে।
২. ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের করোনার লক্ষণ থাকলে ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা। ৩. ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
৪. বিনা চিকিৎসার জন্য অভিযোগ দায়ের করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে অভিযোগ প্রহণের পদ্ধতি চালু করতে হবে। ৫. বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে অস্বাভাবিক বিল এলে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলেন, আমরা হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্যসংবলিত পত্রিকার প্রতিবেদন আজ আদালতের কাছে দাখিল করেছিলাম। আদালত এসব অভিযোগ তদন্তসহ পাঁচদফা নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে পৃথক পাঁচটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ১৫ জুন হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা ও অভিমতের মধ্যে গত ১৬ জুন ৭টি নির্দেশনা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। এ ছাড়া তিনটি নির্দেশনা বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা জানাতে দেওয়া নির্দেশনার আলোকে ৩০ জুনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
-এএ