আওয়ার ইসলাম: বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় সোমবার রাতে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে- ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ ৬ জনকে। এদিকে ময়ূর-২ লঞ্চের সাবেক চালক জানিয়েছেন, লঞ্চটিতে আপাতত চালক নেই। মাস্টারের মাধ্যমে সেটি চলাচল করছিল।
নৌ পুলিশ জানায়, ‘ময়ূর-২’ লঞ্চের মালিক মোফাজ্জল হামিদ ছোয়াদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তবে তিনি ঢাকায় থাকেন। তিনি ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাস্টার আবুল বাশার, জাকির হোসেন, ড্রাইভার শিপন হাওলাদার, মাস্টার শাকিল ও সুকানি নাসির। এজাহারভুক্ত ছয়জন ছাড়াও অজ্ঞাত কয়েকজন আসামির তালিকায় রয়েছেন। বেপরোয়া লঞ্চ চালিয়ে মানুষ হত্যা ও ধাক্কা দিয়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৪৩৭ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি হয়।
নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম জানান, ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক ও চালকসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিএ বিশেষ পদ্ধতিতে ডুবে যাওয়া 'মর্নিং বার্ড' লঞ্চটি তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় আসতে না পারায় আরেকটি ছোট জাহাজ এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ট্রাকের খালি টায়ার ডুবে যাওয়া লঞ্চে ভেতরে ঢুকিয়ে তার মধ্যে বাতাস দেওয়া হচ্ছে। অনেক টায়ারে বাতাস দেওয়া গেলে লঞ্চটি ভেসে উঠবে।
ডুবুরিদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চের ভেতরে আর কোনো মৃতদেহ নেই।
অপর দিকে, ‘ময়ূর-২’ লঞ্চের সাবেক চালক শিপন হাওলাদার জানিয়েছেন, গত ২১ জুন থেকে ওই লঞ্চে তার চাকরি নেই। বেতন পরিশোধ করে তাকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা লঞ্চ চালানোর কথা নয়, তারা ময়ূর-২ চালাচ্ছিলেন। ওই লঞ্চে কোনো চালক নেই। মাস্টার লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।

-এএ