বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩০ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির’ ভুল সংবাদের ভিত্তিতে ইসি শোকজ করেছে: মাওলানা মামুনুল হক এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ  ইসিতে শুনানির পঞ্চম দিনে আরও ৭৩ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর বিজিবিতে নিয়োগ পেয়ে যা বললেন ফেলানীর ছোট ভাই ইসলামী আন্দোলনের আমীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেন নাই কুষ্টিয়ায় শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে ‘রেডিয়েন্ট সার্কেল’ বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়ায় তাকমীল জামাতের সমাপনী দরস অনুষ্ঠিত

করোনা ভাইরাসের মতো সরকার জনগণের শ্বাস চেপে ধরেছে: রিজভী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনা ভাইরাস যেমন মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেয়, ঠিক তেমনিভাবে সরকারও জনগণের শ্বাস চেপে ধরেছে। সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার চলছে হুকুমবাদের মনোভাব ও বাধ্যকরণের নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তাদের আরেকটি প্রধান নীতি হচ্ছে জনগণকে বশ মানাতে বল প্রয়োগ করা।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে গ্রামে গ্রামেও নীরবে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশই এখন কোভিড-১৯ ভাইরাসের দখলে। ঢাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক। করোনার অভিঘাতে দেশব্যাপী প্রায়-দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। অর্থনীতির চাকা স্তিমিত, আমদানীর পাশাপাশি রপ্তানী আরও আশঙ্কাজনক হারে কমছে, ধ্বসে গেছে রেমিটেন্স।

করোনার প্রভাবে দেশের নেতিবাচক আরও কিছু দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, এ ভাইরাসের কারণে চাহিদা ও ভোগ হ্রাস পাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের চোখে সর্ষে ফুল দেখার দশা। এর ওপর ফ্যাসিবাদের অবয়ব চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। এদের আমলে দেশের টাকা পাচার হয়েছে অত্যুগ্রমাত্রায়। এর সাথে ক্ষমতাসীনদের রুই-কাতলারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতা দখল করে বারো বছরের রাজত্বে অসংখ্য পাপুল, সম্রাট, খালেদ, শিকদার ভ্রাতৃদ্বয়ের জন্ম দিয়েছে। ক্যাসিনো থেকে শুরু করে মানবপাচারের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের পকেটে ঢুকেছে। রহস্যজনকভাবে দেশ থেকে উধাও হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকাও। ক্ষমতাসীনদের দাপটে সরকারী ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নিয়ম-কানুন ছাড়াই ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা উড়ে গেছে। এখন দেশের আর্থিক খাত সম্পূর্ণরূপে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এর ওপর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই যাচ্ছে সরকার। এবারেও ভাববিলাসী বাজেট বাস্তবায়ন করতে ব্যাংক থেকে বিশাল অংকের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে করে ব্যাংকের বিদ্যমান তারল্য সংকট আরও ভয়াবহ রুপ নেবে।

সরকার তাদের সৃষ্ট শুন্যভাণ্ডার পূরণ করতে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষের গলায় ছুরি বসিয়ে টাকা আদায় করছে বলেও মন্তব্য রিজভীর। তিনি বলেন, করোনা মহামারির এই প্রলয়ংকারী দুর্যোগের সময় সুষ্ঠু ভোটে নির্বাচিত দায়িত্বশীল সরকার থাকলে বিদ্যুৎ বিল মওকুফ, বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে সহায়তা করা, বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতো। কিন্তু নিশিরাতের সরকার সেটি না করে অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল দেশবাসীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। সেই বিল জুনের মধ্যে পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের অস্বাভাবিক বিল আদায়ে দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট একটি অমানবিক দুষ্টুচক্র কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাস যেমন মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেয় ঠিক তেমনিভাবে সরকারও জনগণের শ্বাস চেপে ধরেছে। সরকার এতোটাই নির্বিবেক ও বেপরোয়া যে, হরিলুট হওয়া সরকারি অর্থের ঘাটতি পূরণে গরিব মানুষের শরীর থেকে রক্ত টেনে নিচ্ছে।’

অনলাইনে দেয়া বিবৃতির শেষ দিকে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, এই করোনাকালে আমরা বেশ কয়েকজন মানবিক বাড়িওয়ালা দেখেছি যারা ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন। আবার অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের সাথে করছে নির্দয় আচরণ। ভাড়াটিয়ারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছে, কখন তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেয়। সরকার বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে তারা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নানাভাবে মাশুল আদায় করছে অন্যায়ভাবে।

‘যারা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহিতা তাদের সুদ মওকুফের ঘোষণা দেয়া হলেও নির্দয়ভাবে সুদ আদায় করা হচ্ছে। এই সরকার দেউলিয়া হওয়া অর্থনীতি সচল রাখার জন্য স্বল্প আয়ের মানুষদের মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান দুর্নীতি-বান্ধব সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, করোনার আঘাতে দেশের বেহাল দশা ও প্রায়-দুর্ভিক্ষাবস্থা ঠেকাতে ‘কোড অব সাইলেন্স’ প্রয়োগ করছে। এজন্য দমনমূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহারের দ্বারা র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দা মেশিনারি দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে। অসহায় মানুষকে নীরবে সইতে হচ্ছে ক্ষুধা ও জুলুমের যন্ত্রণা। অসম্ভব হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন-যাপন।’

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ