বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩০ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৫ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়ায় তাকমীল জামাতের সমাপনী দরস অনুষ্ঠিত একবাক্স নীতি বহাল রাখতে আলোচনা চলমান: গাজী আতাউর রহমান হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তিনি কাঁদলেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন ঐক্য নেতাকর্মীদের অপ্রীতিকর কিছুতে না জড়াতে বললেন জামায়াত আমির ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ট্রাম্পের হুমকির পরও ইরানে বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আজ? রাজধানীর তিন জায়গায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ, তীব্র যানজট

মাদরাসা খুলে দিলে কী ধরনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মাদ্রাসাগুলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুফিয়ান ফারাবী।।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

কওমি মাদ্রাসাগুলো আপাতত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে শুধুমাত্র ভর্তি কার্যক্রম চালু রেখেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা না আসায়, তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারছে না।

পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের ওলামায়ে কেরাম এখনই মাদরাসা খুলতে অনাগ্রহী। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে চান তারা। কবে নাগাদ খুলে দেওয়া হচ্ছে বন্ধ মাদ্রাসার দুয়ার সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে জানে না কেউই।

প্রশ্ন উঠেছে মাদ্রাসা খুলে দিলে করণা সংক্রমণ এড়ানোর কতটুকু প্রস্তুতি নিতে পেরেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডগুলো। বিপুল পরিমাণ জনসমাগম ও ঘনবসতির মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আদৌ কি সম্ভব?" প্রশ্ন রেখেছিলাম বেফাকের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের কাছে।

তিনি জানিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো আপাতত ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে। যখন সরকার ও কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলিয়া মাদ্রাসা উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবে, তখন আল হাইয়াতুল উলিয়া বৈঠক করে সকল প্রকার নিয়ম নীতি প্রণয়ন করবেন।

তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, যেহেতু কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যান না। মাদ্রাসার নিয়ম কানুন মেনে চলেন সর্বদাই। চার দেয়ালই তাদের আসল ঠিকানা। সেই সুবাদে করোনা সংক্রমনের এই সময়ে আমরা ছাত্রদেরকে সর্বাবস্থায় মাদ্রাসায় রাখবো। অন্য সময়েও সাধারণত ছাত্ররা খুব একটা বের হয়না। মাদ্রাসায় তাদের আপন ঠিকানা। তাই বাহির থেকে সংক্রমিত হয়ে আসার সম্ভাবনা কম।" বলেন মাওলানা মাহফুজুল হক।

এছাড়া আমরা অভিভাবকদের মাদ্রাসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি। শুধুমাত্র এই সময়ের জন্য মাদ্রাসায় বাহির থেকে মানুষ আসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তাতেও কিছুটা নিরাপত্তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। যেহেতু ভেতরের মানুষ বাইরে যাচ্ছে না, বাইরের মানুষ ভেতরে ঢুকতে পারছে না -এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হতে পারে।" বলছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক

বিশেষত মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা যায়। তাতেও ভালো ফলাফল মিলবে ইনশাআল্লাহ।

"ঢাকার প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্ররা বেশি ভিড় করে থাকেন। অন্তত এই সময়ে এটা উচিত হবে না। যে যেখানে আছেন, সেখানে এবছরের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারেন। প্রতিটি মাদ্রাসা পুরাতন ছাত্রদের মাধ্যমে চালু রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গ্রামের মাদ্রাসাগুলোকে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। তাহলে ছাত্রদের মাঝে শহরমুখী ভাব কেটে যাবে।যোগ করেন বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব।

সাভারের সিনিয়র আলেম আনন্দপুর দারুল উলুম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি আলী আজম আমাদেরকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে যদি সরকার মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দেন, তাহলে আমরা আশা করছি আমাদের প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

সে ক্ষেত্রে আমরা কম ছাত্র ভর্তি নিবো। পুরাতন ছাত্রদের অগ্রাধিকার দিবো। আশপাশের শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ব্যবস্থা করবো।"

এছাড়া ছাত্ররা ক্লাসের টাইমে একটু ফাঁকা হয়ে বসবে। গোসলখানায় ভিড় কম করবে। বোর্ডিং ঘরে খাবারের জন্য অযথা সিরিয়াল ধরবে না।"বলছিলেন মুফতি আলী আজম।

মোটকথা যত প্রকার স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে, আমরা সবগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। ছাত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনলে, ছাত্রদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে এবং প্রতিটি ক্লাস রুমে নির্ধারিত দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলে, আশা করি সহজ হবে। আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করবেন। ইনশাআল্লাহ।"যোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সতর্কতা অবলম্বন করে খুলে দেওয়া হোক সেই প্রতিষ্ঠানগুলো যেখান থেকে হেরার জ্যোতি ছড়ায়। কোরআনের প্রেমিকেরা গান গায়। হাদিস পাঠে রাসুল সা. প্রেমে মগ্ন থাকে। তবে সরকার কখন অনুমতি দিবেন, উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। ‌

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ