আওয়ার ইসলাম: প্রিয় দেশবাসী! আজ এমন সময়ে আপনাদের উদ্দেশ্যে কথা বলছি, যখন সারা পৃথিবীতে মানুষ অনেক দুঃখ-কষ্টে আছে। গরীব-অসহায় পরিবারের লোকগুলো অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এই কষ্টের কথা মনে হলে আমাদের সবার খুব খারাপ লাগে। যখন দুনিয়াতে ব্যাপক আকারে কোন মহামারী আগমণ করে, তা একশ্রেণীর মানুষের জন্য হয় গজব ও সতর্কবাণী। আরেক শ্রেণীর মানুষের জন্য হয় রহমত ও দয়ার পরশ।
প্রিয় দেশবাসী! করোনা ভাইরাস আমাদের জন্য গজব না রহমত হবে এটা একটু ভাবার বিষয়। গত কয়েকদিন যাবত আমার মাথায় কিছু চিন্তা বারবার দোল খাচ্ছে, আজ আমি আপনাদের সামনে তা তুলে ধরতে চাই। করুণা ভাইরাসের মহামারী সারাবিশ্বে অপ্রতুল পরিমাণে ছড়িয়ে গেছে, এটি কারো অজানা নয়। বিশ্ব গবেষক, বিশ্ব পন্ডিত, বিশ্ব শক্তিধর সবাই এর কাছে নতজানু স্বীকার করেছে। সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। এই বিপদ থেকে আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে রেহাই দিতে পারবেনা।
প্রিয় দেশবাসী! একটু লক্ষ্য করবেন, সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারীতে পর্যুদস্ত হয়ে থরথর করে কাঁপছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মুক্তি ও পরিত্রাণ লাভের জন্য রমজানুল মোবারকের হাদিয়া দিয়ে ধন্য করলেন। রমজান মাস রহমতের মাস, রমজান মাস মাগফিরাতের মাস, রমজান মাস নাজাত ও মুক্তির মাস। রমজান মাসে দিনের বেলায় মু’মিন সারাদিন সিয়াম সাধনা করে। কুরআন খতমের জন্য তেলাওয়াত করে, জিকির-আযকার করে ও আরো অন্যান্য এবাদত করে প্রচুর পরিমাণে। রাতের বেলায় তারাবিহ, কিয়ামুল্লাইল, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য আমল করে বিপুল পরিমাণে। এই মাস চলে আমলে আমলে। কিন্তু দোস্ত বুজুর্গ, পরিতাপের ও আফসোসের বিষয় হল এই যে, করোনা ভাইরাসের মুসিবত আমাদেরকে যত কঠিনভাবেই আঘাত করুক না কেন? আমার আপনার রব আল্লাহ তায়ালার রহমতের শক্তি তো আরো অনেক অনেক বড়। তিনি যত বড় তাঁর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতও তত বড়।
দেখতে দেখতে রমজান মাস শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। রহমতের দশক শেষ। মাগফিরাতের দশক শেষ। নাজাতের দশক শেষ হওয়ার পথে। করোনা তো পৃথিবী থেকে এখনো শেষ হয়ে বিদায় নিল না। বিশেষ করে আমাদের প্রিয় দেশ থেকে তো বিদায় নিল না। বরং গণমাধ্যমে সংবাদ শোনা যায় করোনা ভাইরাসের মুসিবত আমাদেরকে আরো বেশি করে ধরতেছে। আমাদের চিন্তার বিষয় হলো, তাহলে কি আমরা এখনো সতর্ক হই নি, এখনো তাওবা করি নি, গুনাহ ত্যাগ করতে পারি নি এবং আল্লাহ তা'আলা কি আমাদের ওপর এখনো নারাজ হয়েই আছেন, আমরা কি রবকে খুশি করতে পারি নি?
প্রিয় দেশবাসী! এই কথাগুলো আপনাদের সামনে পেশ করার মাকসাদ হলো, আসুন আমরা রমজানুল মোবারকের শেষ দশকে দিনের এবাদত আরো বাড়িয়ে দেই, কোরআন তেলাওয়াত বাড়িয়ে দেই, জিকির-আযকার আরো বাড়িয়ে দেই, সালাতুল হাজত পড়ি এবং রাতের বেলায় কিয়ামুল লাইল করি, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে পড়ে সাহরির আগ মুহূর্তে রোনাজারিতে বুক ভাসিয়ে দেই। সারাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করি। নাজাতের দশক শেষ হওয়ার আগে আগেই আল্লাহ পাকের নিকট করোনা ভাইরাস শেষ হওয়ার দোয়া করি। মাদ্রাসা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ হয়ে রমজান মাসেই সব কিছু খোলে দেয়ার ফয়সাসা আল্লাহ তায়ালার রহমতের দরবার থেকে হয়। সেদিকে আমরা নজর দেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দান করুন। আমিন।
(মাওলানা আবদুল হামীদ মধুপুরের পীর জামি'আ হালীমিয়া মধুপুর-এর জামে' মসজিদে ই'তিকাফরত অবস্থায় মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যটি প্রদান করেন।)
-এএ