আওয়ার ইসলাম: উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড় 'আম্পান' কিছুটা দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এটি আজ বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ যে কোনো সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের উপকূলে আছড়ে পড়েতে পারে। এরপর সুন্দরবনের কাছ দিয়ে দুই দেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় 'আম্পান' দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আজ বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এবং সুন্দরবনের পাশ দিয়ে দুই দেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
এতে আরো বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করার সময় এসব জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছে, তার আশপাশের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। তবে এটি মাঝে মাঝে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পায়রা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপূলীয় অঞ্চল খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহকেও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসমূহকে ০৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ০৯ নম্বর মহবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসগর ও গভীর সাগরে আবস্থান করা মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
-এটি