সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২০ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

গণপিটুনি নিয়ে মোদিকে চিঠি দেয়ায় ৫০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: গণপিটুনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেয়ায় দেশটির ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়েছে।

ভারতজুড়ে ক্রমবর্ধমান গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, অনুরাগ কাশ্যপ, শ্যাম বেনেগাল, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী অপর্ণা সেন-সহ মোট ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

তাতে বলা হয় মুসলিম, দলিত এবং সংখ্যালঘুদের এভাবে পিটিয়ে মারার ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তারা।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, দুঃখজনকভাবে জয় শ্রীরাম এখন উত্তেজনামূলক যুদ্ধের হুঙ্কারে পরিণত হয়েছে। যার জেরে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হচ্ছে এবং রাম নাম নিয়ে অনেক জায়গায় গণপিটুনির ঘটনাও ঘটছে। এটা দুঃখজনক যে, ধর্মের নাম নিয়ে হিংসার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটা মধ্যযুগ নয়।

রামচন্দ্রের নাম ভারতের বেশিরভাগ মানুষের কাছে পবিত্র। দেশের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে আপনার উচিত, এই ধরণের ঘটনা বন্ধ করা। তা নিয়েই বৃহস্পতিবার বিহারের মুজফ্ফরপুরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে পিটিশন দিয়েছিলেন আইনজীবী সুধীর কুমার ওঝা। তিনি বলেছেন, ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা দেশের মানুষকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টাকে খাটো করে দেখাতে চেয়েছেন।

ওই চিঠির মাধ্যমে বিশিষ্টদের বিচ্ছিন্নতাকামী মানসিকতাও ফুটে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শান্তিভঙ্গে প্ররোচনা দেয়ায় ওই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর দায়ের প্রসঙ্গে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই মুহূর্তে দেশে কী চলছে, সে ব্যাপারে প্রত্যেকেই অবগত। কোনও গোপনীয়তা নেই। এমনকি গোটা বিশ্বও জেনে গিয়েছে। ক্রমশ স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছি আমরা। মোদী সরকার সমালোচনা শুনতে পারে না বলেও অভিযোগ করেছেন রাহুল।

তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললে, আজকাল জেলে ভরে দেয়া হয়। পড়তে হয় হামলার মুখেও। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে সংবাদমাধ্যমকেও।

রাহুল আরও বলেছেন, এক দিকে ধারণা জন্মেছে যে, এক ব্যক্তিই দেশ শাসন করবেন। দেশে একটি মাত্র আদর্শই থাকবে। বাকিদের মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হবে।

অন্যদিকে বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি এবং বাক স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। দেশে এখন এই যুদ্ধই চলছে।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ