শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচরণ ইলমের জন্য বহুমুখী ক্ষতির কারণ’ সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে নেতৃত্বের আসনে বসা যায় না: ছাত্র জমিয়ত ঢাকার আরও দুই এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ মক্কার দিকে ড্রোন হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা, প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে নিরাপত্তাহীনতায় রাজধানীবাসী’ সব জেলা পরিষদকে জরুরি নির্দেশনা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টেও হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে কুরআন নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াতের হারামাইনের নিরাপত্তায় প্রতিটি পাকিস্তানি সৌদির পাশে: মাওলানা ফজলুর রহমান চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আমরা চাই, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত: ইমাম রশিদি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: গতকাল সোমবার ভোট ছিল ভারতের আসানসোলে। সকাল ১০টার দিকে ভোট দেওয়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম ইমদাদুল রশিদি। তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে ভোট দিতে যাচ্ছি। আমরা চাই, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত; যেদেশে সবাই সমান মর্যাদা পাবে।’

ভোট দিয়ে এসে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘দেশটা তালেবানের হবে না, দেশটা আরএসএসের হবে না। আমি ভালোবাসার কথা প্রচার করতে এসেছি, দেখবেন একদিন ভালোবাসার জয় হবে।’

ভারতীয় গণমাধ্যম টিডিএন বাংলা লিখেছে, ইমদাদুল রশিদির মুখ থেকে যা বের হয় তা যেন ভারতের চিরাচরিত সংস্কৃতির কথা। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যে তিনি ভারতীয় সভ্যতার প্রচার করার জন্য চেষ্টা করেন তা বলায় যায়।

আনন্দবাজার লিখেছে, নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইমাম বলেন, হানাহানি করে ভোটে জেতার দরকার নেই। তিনি বলেছিলেন, ১৫ লাখ টাকা করে দেবেন। তার থেকে যদি প্রতি ভারতীয়কে ১৫ হাজার টাকা করেও তিনি দিতেন তাহলে তার দলকে এভাবে মারামারি করতে হত না। এমনিই জিততেন।

ইমদাদুল রশিদি বলেন, ‘আসানসোলে অতবড় অশান্তি হলো, প্রধানমন্ত্রী কিছুই বললেন না! শান্তি বজায় রাখার পক্ষে আমাদের চেষ্টা নিয়ে তার মুখে কিছুই শোনা যায় না। অথচ, কিছু প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রবিরোধী বলে দেন। রাষ্ট্রপ্রেম মানে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেওয়া নয়।’

আজ থেকে ঠিক একবছর একমাস একদিন আগে ইমদাদুল রশিদির ছেলে ১৭ বছরের সিবঘাতুল্লা খুন হয়েছিলেন। রাম নবমীর মিছিল থেকে সশস্ত্র হামলাকারীরা বেরিয়ে এসে সিবঘাতুল্লাকে ঘিরে ধরে কুপিয়ে মেরেছিল। তারপর সদ্য মাধ্যমিক দেওয়া ছেলেটার লাশ কুড়িয়ে এনে ওই এলাকার হাজার হাজার মুসলিম জনতা নুরানি মসজিদের সামনের চত্বরটায় জড়ো হন। প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা।

এসময় মসজিদের দেড়তলার ঘর থেকে ইমাম রশিদি বেরিয়ে আসেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সদ্য পুত্রহারা বাবা বলেন, তিনি কোনও প্রতিশোধ চান না। চোখের বদলে চোখ কোনও সমাধান নয়। যদি ভিনধর্মের একটি মানুষও আক্রান্ত হন, তিনি আসানসোল ছেড়ে চলে যাবেন।

ইমামের সেই কথার পরেই একটু একটু করে শান্ত হতে শুরু করে পরিস্থিতি। দাঙ্গার উত্তাপ কমে আসে।

কেপি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ