মুহাম্মদ এহসানুল হক
আলেম, লেখক
জাতীয় নির্বাচন এলেই দেশটা অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ভাঙাগড়ার খেলায় মেতে উঠে রাজনৈতিক দলগুলো। পর্দার আড়ালে শুরু হয় নেপথ্য কারিগরদের আনাগোনা। কূটনৈতিক পাড়ায় তাকালেই চোখে পড়ে রথি-মহারথি ও কুশীলবদের দৌড়ঝাপ। প্রতিপক্ষের অচল মামলাগুলো সচল হয়ে ওঠে। প্রয়োজন হলে রায় চলে আসে অবিশ্বাস্য গতিতে।
রাজনৈতিক সমঝোতায় কখনো হাসপাতাল হয়ে উঠে নিরাপদ ঠিকানা। কান পাতলেই শোনা যায় দরকষাকষির নানা রকম হিসাব। সকালের সমীকরণ বিকালে বদলে যায়। কে কখন কার বিপক্ষে চলে যায় কিছুই বলা যায় না।
অন্য সব নিবার্চনের মতো এবারও দলবদল ও ভাঙাগড়ার খেলা চলছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে বাহ্যত তেমন কোনো পরিবর্তন না এলেও সবকিছু আছে তাদের নখদর্পনে, চলছে তাদের ইশারায়। জোটের কলেবর বৃদ্ধির অসুস্থ প্রতিযোগিতায় কদর বেড়েছে ছোট দলগুলোর।
পিছিয়ে নেই ইসলামি দলগুলোও। কোনো দল প্রকাশ্যে, আবার কোনো দল অপ্রকাশ্যে সরকারের আনুকুল্য পাবার চেষ্টায় নিয়োজিত আছে। আবার দু’একটি ইসলামি দল দৃঢ়তার সাথে থেকে গেছে সরকারবিরোধী মোর্চায়।
এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সরকারের শেষ সময়ে এসে একটি বিকল্পশক্তি তারা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বেগম জিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ এ ধরনের একটি জাতীয় ঐক্যের আহবান করছিলেন।
গত কয়েক বছরের ইফতার মাহফিলে ঐক্যফ্রন্টের এসব নেতৃবৃন্দ একত্রিত হলেও রাজনীতির মাঠে তারা এক শামিয়ানার নিচে সমবেত হবেন- এমনটা সুদূর পরাহত মনে হতো। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ১৩ অক্টোবর প্রেসক্লাব থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যাত্রা শুরু করেছে।
সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, জেএসডির আ.স.ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বিএনপি নেতাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বেগম জিয়ার এত চেষ্টায় কাজ না হলেও এখন কার ইশারায়, কার প্রভাবে তারা ঐক্যবদ্ধ হলেন- সেই প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে বিএনপির ভবিষৎ।
ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠার দিনে আরেকটি বড় ঘটনা ছিল বি. চৌধুরীর বিকল্পধারার এই ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যাওয়া। এই প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী।
২২ সেপ্টেম্বর ঐক্যবদ্ধ প্রথম সমাবেশেও তিনি ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ও ড. কামাল হোসেন ঐক্যবদ্ধ থাকার ওয়াদা দিয়ে কাগজে স্বাক্ষরও করেছিলেন। কিন্তু তার পুত্র মাহী বি. চৌধুরীর কারণে এক সাথে পথচলা à¦