মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত: নিষিদ্ধ পোস্টার সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, বহু হতাহতের শঙ্কা ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের যাত্রা শুরু মকতব শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্বীনিয়াতের ‘বিশেষ শিক্ষক ওয়ার্কশপ’ আগামী বৃহস্পতিবার জুলাই জাদুঘরে ভাস্কর্যের বিকল্পে হেফাজতের দুই প্রস্তাব পাকিস্তানে হজ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ১২ লাখ রুপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও প্রার্থী দেওয়া বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা: মাওলানা ইউসুফী ৯ মাসের বেতন বকেয়া, চালডালের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীদের অবস্থান জুলাই জাদুঘর থেকে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের কড়া হুঁশিয়ারি হেফাজতের

‘কোটা বাতিল হলেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা বাতিল করা হলেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীরা সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন।

রাজধানীর বেইলি রোডে রোববার বিকালে ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চল বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, পাহাড়ী হোক, সমতল ভূমি হোক, সেখানে যে প্রার্থী থাকবে; তারা সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। এটা আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি এবং করে দেব; সেটা আপনাদের আমরা কথা দিতে পারি।

সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ কোটা দীর্ঘদিন যাবত বরাদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনের ফলে এটি তুলে দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভা গত ৩ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে সচিব কমিটির সুপারিশে সায় দেয়।

এরপর থেকে কোটা বহালের দাবি জানিয়ে আসছে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বিভিন্ন সংগঠন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (শন্তু লারমা) প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “গোটা বাংলাদেশে পাহাড়ের ও সমতলের আদিবাসী জনগণ ভালো নেই। তারা যেন ভালো থাকতে পারে; সেজন্য আপনি ভালোভাবে ভাববেন।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যপরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালে জারি করা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ড আইন প্রণয়ন করা হয়।

এতে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চারিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আর কোনো সংঘাত না। শান্তিচুক্তি করেছি আমরা পাহাড়ে। সে শান্তি যেন বজায় থাকে। শান্তির পথ ধরেই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন।

র্বত্য শান্তিচুক্তির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তির অধিকাংশই আমরা বাস্তবায়ন করেছি। কিছু কিছু এখনো চলমান আছে। কিন্তু, এর বাইরেও আমরা সেখানে সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গেছি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে দিয়েছি। যার ফলে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ঔপনিবেশিক আইন অনুসরণ না করে দেশের আইন অনুসরণ করার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভূমি কমিশনের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি কমিশন যেন কাজ করে তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারে; সেজন্য আমি তাদের সহযোগিতাটা চাচ্ছি। এখানে যতবার কমিশন করি, কাজ করতে গিয়ে বাঁধাগ্রস্ত হয়।

বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, হতাশ হওয়া কারণ নেই। শেখ হাসিনা থাকলে সমস্যার সমাধান হবে।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল আমিন।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ