বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩০ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৫ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ে নিহত ২২ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপর্যয় ঘটতে পারে: কাতার ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার কড়া সতর্কবার্তা সংবিধান সংস্কারে গণভোট : স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ: মির্জা ফখরুল সুতার মোজার ওপর মাসাহ—শরঈ বিধান কী বলছে? মেধা বিকাশের অনন্য ঠিকানা ‘জামিআ ইসলামিয়া বাইতুল আমান’ জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন  প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জমিয়তের আলেম-উলামাসহ সব ধর্মের মানুষ বিএনপির কাছেই নিরাপদ: শামা ওবায়েদ

শেখ ফরিদকে হত্যা করল কুমিল্লার 'জিন হুজুর'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম : কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামে মাহবুবুর রহমান নামের এক ভণ্ড কবিরাজ কর্তৃক শেখ ফরিদ নামে ৩ বছরের শিশুকে দুষ্টুমি কমানোর নামে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

শিশু মাহবুবুর রহমান জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী জামাল হোসেনের একমাত্র সন্তান।

এ ঘটনায় পুলিশ ভণ্ড কবিরাজের খাদেমসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে জিন হুজুরখ্যাত ওই ভণ্ড কবিরাজ। রোববার দুপুরে শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়।

ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমান জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন জিন-ভূত তাড়ানোর অপচিকিৎসার আস্তানা। তিনি সব মহলে জিন হুজুর নামে পরিচিত।

এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জিন হুজুরসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জানা গেছে, ছোট্ট শিশু শেখ ফরিদ বেশি দুষ্টুমি করতো। এতে শিশুর মা রোজিনা বেগম শিশুর দুষ্টুমি কমানোর জন্য গত শুক্রবার সকালে বারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মাহবুবুর রহমানের নিজ বাড়ির আস্তানায় নিয়ে যান।

এরপর কবিরাজ শিশুর মায়ের কথা শুনেন এবং ওই শিশুর দুষ্টুমি কমাতে হলে শিশুকে ৩ দিন তার কাছে রাখতে হবে বলে শর্ত দেন। এতে শিশুর মা সম্মত হয়ে ওই শিশুকে কবিরাজের কাছে রেখে বাড়ি চলে যান।

শিশুর মা রোজিনা আক্তার জানান, ওইদিন রাতে মোবাইল ফোনে কবিরাজের কাছে ছেলের অবস্থা জানতে চাইলে কবিরাজ বলেছে- আপনার ছেলে ভালো আছে। চিকিৎসা চলছে, রোববার এসে নিয়ে যাবেন। তার দুষ্টুমি কমে গেছে, সে একেবারে ভদ্র ও শান্ত হয়ে গেছে।

রোজিনা আক্তার আরও জানান, পরদিন শনিবার সাদা কাপড়ে (কাফন) মোড়ানো অবস্থায় আমার সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে পাঠায় কবিরাজ মাহবুব এবং সে মোবাইল ফোনে আমাকে জানায়, শেখ ফরিদকে সকালে জিনে মেরে ফেলেছে, গোসল ও জানাজা হয়ে গেছে, দাফন করে দিন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় শিশুর মা রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পলাতক ভণ্ড কবিরাজ মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। জাগো নিউজ।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ