বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ।। ১২ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
বেফাকে সানাবিয়ার ২৭ মেধাস্থানের ২৩টিই জামিআ রাব্বানিয়ায়, সাফল্যের রহস্য কী? জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. ঢাকায় ভর্তি ৭ ও ৮ শাওয়াল ‘নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’য় ভর্তি শুরু আগামীকাল ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরী’ আল-হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ‘ঢালকানগর মাদরাসা’র ভর্তি আগামীকাল ঢালকানগর মাদরাসার শাখা ‘জামিয়া আশরাফুল মাদারিস কমপ্লেক্স’-এ ভর্তি আগামীকাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ বারিধারায় ভর্তি চলছে মাইজগাঁও দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি শনিবার, বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি, ৪০ জনের মতো প্রাণহানীর আশঙ্কা ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও জনগণ বঞ্চিত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’

কেমন আছেন ‘উপরওয়ালা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আজ থেকে ১২/১৩ বছর আগের কথা। আমি এবং আমার প্রতিবেশী একটি মেয়ে প্রথম বোরকা পরে স্কুলে গিয়েছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ত্রিশ জনে। সবাই পড়াশোনায় ভালো ছিল।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের আদর করতেন। আমাদের শিক্ষকদের অনেকেই বোরকা পছন্দ করতেন। তারা খুশি হলেন। কেউ কেউ অপছন্দ করতেন। তবে তারাও উচ্চবাচ্য করলেন না।

আমরা এসএসসির প্রস্ত্ততি নিচ্ছিলাম। কিছুদিন পর টেস্ট পরীক্ষা। হঠাৎ একদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের সবাইকে তলব করলেন। আমরা দুরু দুরু বুকে উপস্থিত হলাম। দেখলাম স্কুলের সব শিক্ষক-শিক্ষিকা সেখানে আছেন।

প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘তোমরা বোরকা পরে স্কুলে আসো ভালো কথা। কিন্তু আগামীকাল থেকে স্কুলের ভিতর এসে বোরকা খুলে ফেলবে। এটা উপরের নির্দেশ। আগামীকাল থেকেই তা কার্যকর করতে হবে।’

সহপাঠীরা আমাকে ইশারা করল কিছু বলার জন্য। আমি সাহস করে বললাম, ‘স্কুলের ভিতরে পুরুষ শিক্ষকরা তো আছেন। বোরকা খুলে ক্লাস করব কিভাবে?’ প্রধান শিক্ষক এবার একটি আশ্চর্য কথা বললেন, ‘শিক্ষকগণ পিতা-মাতার সমতুল্য। তাই তাঁদের সামনে বোরকা ছাড়া উপস্থিত হওয়া যাবে।’

আমরা চুপ করে আছি, তিনি বললেন, ‘তোমরা যাই বল, আমি কিছুই করতে পারব না। এটা উপরের নির্দেশ। আগামী কাল থেকেই তা কার্যকর করতে হবে।’ শিক্ষকরাও কিছু বলছেন না।

আমরাও ভয়ে চুপ করে আছি, শেষে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বললাম, ‘স্যার, এখানে এসে যদি বোরকা খুলতে হয়, তাহলে আগামীকাল থেকে আমি আর স্কুলে আসব না।’ ব্যাগ নিয়ে বাসায় চলে এলাম।

পরদিন থেকে স্কুলে যাই না। আববু সফরে ছিলেন। সফর থেকে ফিরে সব শুনে বললেন, ‘শাবাশ’! কিন্তু যে বিষয়টি আমার মনে কাঁটার মত বিঁধত তা হচ্ছে আমার সহপাঠীদেরকে আরও অনেকদিন ঐ স্কুলে কাটাতে হয়েছে এবং ‘উপরের নির্দেশ’ মানতে হয়েছে। আ

মার বোরকার বন্ধুদের জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি। পরে আরও কয়েকজন স্কুল ছাড়ার হুমকি দিলে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ শিথিল করেছিলেন এবং সাদা স্কার্ফে মুখ ঢাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে কমিটির সেই ‘উপরওয়ালা’ এলে তাদেরও নেকাব খুলতে হত। লজ্জায় তারা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখত।

আমার ছোট ভাই আমাকে সেই ‘উপরওয়ালার’ মৃত্যুর সংবাদ দিল। যারা সেদিন তার নির্দেশ অমান্য করার সাহস করেনি তারাই তাকে মাটির ‘নীচে’ রেখে এসেছে। ‘উপর’ আর ‘নীচে’র মাঝে কত সামান্য ব্যবধান! তবুও আমরা কিছু মানুষ ‘উপরওয়ালা’ হয়ে যাই। আর কিছু মানুষ তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকি।

জানি না কী অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি কি ঈমানের সাথে বিদায় নিয়েছেন? নিশ্চয়ই তার সামনে এসেছেন মুনকার নকীর। তারাও কি তার আদেশ পালন করেছেন?

ঈমানের সাথে মৃত্যু হলে আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন।

একজন কিশোরীর ডায়েরিতে পাওয়া আদীব হুজুর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ