মুহাম্মাদ রাইহান : জামিয়া গহরপুরের পাশ ধরে চলে গেছে নীরব নিটোল স্রোতের বড়বাঘা নদী। নদী আর মাদরাসার মাঝখানে সটান শুয়ে আছে সুদীর্ঘ উঠোন। উঠোনের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পাকা। বাকিটুকুতে সবুজ ঘাসের শৈল্পিক মহড়া। সুবিস্তৃত এই অংশটুকুতে অমোচনীয়ভাবে সেঁটে থাকে গাঢ় সবুজের বিজ্ঞাপন। যেন ছুঁয়ে দিলেই মুঠো ভরে যাবে সবুজে।
হেঁটে গেলে পায়ে পায়ে লেগে যাবে সবুজের কাচা রঙ। নরোম ঘাসে-মোড়া এই অংশের মধ্যখানে কোনাকুনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে মাঝারি সাইজের তিনটি মঞ্চ। হৃদয়াকর্ষক, দৃষ্টিনন্দন। আঁড়াআঁড়িভাবে নির্মিত মঞ্চে দাঁড়ালে তিনটি ভবন নিয়ে একসঙ্গে চোখে পড়ে পুরো জামিয়া।
মঞ্চের তিনপাশ ঘিরে আঁধারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বাহারি রঙের বাতি। অন্ধকার সাড়া দিলেই মঞ্চের গায়ে উপচে পড়বে আলোর ফোয়ারা। মঞ্চের সামনে চেয়ারের সারি। সারিগুলো বেশ লম্বা, অনেকদূর বিস্তৃত।
মঞ্চ থেকে খানিকটা দূরে সুবিন্যস্ত কয়েকটি স্টল। বইয়ের, ফাস্টফুডের, চা-কফির। আন-নূর ছাত্রকাফেলার প্রথম দশকপূর্তি উপলক্ষ্যে এভাবেই ছিলো আননূর উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি।
গহরপুর জামিয়ার ছাত্রদের বহুমাত্রিক প্রতিভা, মেধা ও মননের পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর গঠন করা হয় একটি ছাত্র সংগঠন। জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ.-এর নামানুসারে সংগঠনের নাম রাখা হয় আননূর ছাত্রকাফেলা।
সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক এবং সরকারি বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক ও বহু বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে এগুতে থাকে আননূরের কার্যক্রম।
আননূরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার সূত্র ধরে জামিয়ায় আনাগোনা বাড়তে থাকে লেখক, কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের। তারা আসেন। মুগ্ধ হন। মুগ্ধতা প্রকাশ করেন কথায়, কাজে, লেখালেখিতে।
জামিয়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। ছাত্রদের উৎসাহ দেন। অনুপ্রেরণা যোগান। প্রশংসা করেন মন খুলে। কওমি অঙ্গনের বাইরের লোকেরাও আসেন। মুগ্ধ হন ছাত্রদের আগুনঝরা বক্তব্যের নিখুঁত উপস্থাপনায়।
বিতর্কে হতবাক হয়ে শোনেন উভয়পক্ষের যুক্তি চালাচালি এবং বিপক্ষের শক্তিশালী যুক্তিখণ্ডন। কোরআন তেলাওয়াতের মাধুর্যে, সঙ্গীতে সুরের চাতুর্যে; কোনো কিছুতেই মুগ্ধতার সীমা ধরে রাখতে পারেন না।

অবশেষে ২০১৫ সালে মানুষের আগ্রহ এবং ছাত্রমিলনায়তনে লোকসঙ্কুলান না-হওয়ায় জামিয়ার দুইদিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান মাঠে আয়োজন করতে হয়। সেই থেকে বার্ষিক অনুষ্ঠান মাদরাসার মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে থাকে। দশ