এহসান বিন মুজাহির: সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ বার্ষিক ইসলামী মহাসমাবেশ ঐতিহ্যবাহী বরুণা মাদরাসার আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন আজ শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। সালানা ইজলাস (বার্ষিক মাহফিলে) দেশের বিভিন্ন জেলাস প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ভক্ত-মুরিদ, আলেম-ওলামা, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের ঢল ছিল।
শুক্রবার সকাল দশটায়, আমীরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম ও বরুণার পীর শায়খুল হাদিস আল্লামা শায়খ খলীলুর রহমান হামিদীর সভাপতিত্বে ও হাফিজ মাওলানা শফিউল আলমের সঞ্চালনায় সালানা ইজলাসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারত থেকে আগত মেহমান-আওলাদে রাসূল আল্লামা সায়্যিদ আসজাদ মাদানী। তিনি বলেন-মুসলমানদের মাঝে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে হযরত শায়খে বর্ণভীর (রাহ.) মিশনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মুসলিম উম্মাহর সংকটময় মুহুর্তে বরুণা মাদরাসার খেদমত জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংল্যান্ড থেকে আগত মেহমান প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আল খায়ের ফাউন্ডেশ ইউকের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম কাসিম রাশিদ আহমদ। তিনি বলেন-বাংলাদেশে আলেমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারলে সেদিন বেশি দূরে নয় যে, ইসলাম ও ইসলাম পন্থীদের সুদিন ফিরে আসবে। আলেমদের কাজ বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ চেতনায় উম্মাহর জন্য কাজ করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও সুধীদের আগমন শুরু হয়। হককানী আলেম ও আল্লাহর ওলীদের মুখ থেকে কোরআন ও হাদিসের বাণী শোনার জন্যে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ। শত শত গাড়ীর বহরে যানজটে রূপ নেয় ভৈরবগঞ্জ বাজার থেকে হামিদনগর পর্যন্ত। প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক হেটে হেটে মানুষ বরুণায় পৌছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার ফজর পর্যন্ত ধারাবাহিক আলোচনা, কুরআন তিলাওয়াত, তারানায়ে হেফাজতের আওয়াজে প্রাণের বন্যা শুরু হয়েছিলো। জনসমূদ্রে রূপ নিয়ে ছিলো মহাসমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকা। বরুণার ছাত্র-শিক্ষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী