বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

মাদরাসাপড়ুয়াদের ক্যারিয়ার ভাবনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শাকিল আদনান
অতিথি লেখক

জুমাবারের পড়ন্ত বিকেল। রাজধানীর একটি মাদরাসার গেটে অপেক্ষা করছেন বেশ ক’জন অভিভাবক। এক সপ্তাহ পর তারা প্রিয় সন্তানকে দেখতে এসেছেন। অন্যরকম দৃশ্যটি দেখা গেলো একটু পরই। সরু সিঁড়ি বেয়ে হুড়মুড় করে নেমে আসছে একদল শিশু। যেনো সাদা পোশাকের ফেরেশতা।

শিশুদের ছোট্ট মিছিলটি গেটের কাছে এসেই হঠাৎ থেমে গেলো। একটু দেখে নিয়ে এরপর ওরা ঝাঁপিয়ে পড়লো যার যার মা-বাবার কোলে। হাসি-কান্না আর হৈ-হুল্লোড়ে অভাবনীয় এক পরিবেশ তৈরি হলো। পাশে দাঁড়িয়ে আমিও যে কখন অভিভাবক আর শিশুদের মধ্যে হারিয়ে গেছি টের পাই নি।

নিজেকে সামলে আরো একটু পর এগিয়ে গেলাম লতিফা আমিনের দিকে। আপাদমস্তক বোরখাবৃত এই নারী তখনও ছেলেকে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন, চোখে টলমল জল। ম্যাডাম- আপনি কাঁদছেন?...

একটু থতমত খেলেন। তারপর মুখে হাসি টেনে বললেন- কাঁদবো না! ছয় বছরে একদিনও আমার বাবুকে ছাড়া থাকি নি আমি। এই প্রথম টানা এক সপ্তাহ ওকে ছাড়া থাকতে হলো। তার কথার ফাঁকে আমি আমার প্রশ্নগুলো করার জন্য তৈরি হলাম। ছেলেকে ছেড়ে লতিফা আমিনও ততক্ষণে ওঠে দাঁড়িয়েছেন।

স্বামী এডভোকেট রুহুল আমিনের সাথে আগেই কথা বলে জেনেছি- এই নারী সাধারণ গৃহিণী নন। মাস্টার্স করা বিদুষী। একটা সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষিকাও। তার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন- ছেলেকে মাদরাসায় দিলেন যে?!...

‘ও কোলে আসার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম, আল্লাহ আমাকে ছেলে সন্তান দান করলে ওকে আমি মাদরাসায় পড়াবো। সে কুরআন পড়বে, মসজিদে সবার সামনে দাঁড়িয়ে ইসলামের কথা শোনাবে। আমার নানা আলেম ছিলেন। তাকে দেখে আমার খুব গর্ব হতো। তাই ছেলেকেও আমি নানার মতো করেই গড়ে তুলতে চাই।’

আমাদের সমাজের বিশেষ কিছু মানুষ- শুনেছি আপনার পরিবারের লোকেরাও মাদরাসাশিক্ষাকে ভালো চোখে দেখেন না। আপনি বাধা পান নি?...

লতিফা আমিনের কণ্ঠে বেশ ক্ষোভ- ‘মানুষ কী বললো, সমাজ কী ভাবে সেটাকেই বড় করে দেখলে আমার চলবে কেনো? নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার সাহস-সামর্থ্য-অবস্থান সবই আছে আমার। আমার স্বামীও প্রথমে আপত্তি তুলেছিলেন, পরে খুশি মনেই রাজি হয়েছেন। সুতরাং আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই।’

কিন্তু পরিবার বা সমাজের প্রভাব তো অস্বীকারও করা যায় না। ছেলে যদি বড় হয়ে নিজের অবস্থানকে ছোট মনে করে?...

লতিফা আমিনের স্বর এবার বদলে যায়। ঝাঁঝ মেশানো কণ্ঠেই বললেন- ‘সন্তান আমার। ওকে আমি সেভাবেই গড়ে তুলবো। আমি না ভেবে সিদ্ধান্ত নিই নি। একজন শিক্ষিকা হিসেবে সমাজের আরো দশটা শিশুকে নিয়ে আমার নিত্যদিনের পথচলাà¥