বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ।। ১১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
বেফাকে সানাবিয়ার ২৭ মেধাস্থানের ২৩টিই জামিআ রাব্বানিয়ায়, সাফল্যের রহস্য কী? জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. ঢাকায় ভর্তি ৭ ও ৮ শাওয়াল ‘নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’য় ভর্তি শুরু আগামীকাল ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরী’ আল-হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ‘ঢালকানগর মাদরাসা’র ভর্তি আগামীকাল ঢালকানগর মাদরাসার শাখা ‘জামিয়া আশরাফুল মাদারিস কমপ্লেক্স’-এ ভর্তি আগামীকাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ বারিধারায় ভর্তি চলছে মাইজগাঁও দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি শনিবার, বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি, ৪০ জনের মতো প্রাণহানীর আশঙ্কা ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও জনগণ বঞ্চিত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’

জিনদের মধ্যে কি কেউ নবী ছিলেন?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শাহনূর শাহীন: জিন জাতির মধ্য থেকে নবী ও রাসুল এসছে কিনা এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর মত পার্থক। তবে জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নবী রাসুলের আগমন ঘটেনি। হযরত ইবনে আব্বাস রা. মুজাহিদ রহ. হযরত কালুবি রহ. হযরত আবু উবাইদ রহ. প্রমুকই একই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।

সুরাহ আল-আনআমের ১৩০ নং আয়তে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী রাসুলগণ আসেননি’?

হযরত মুজাহিদ রহ. এ আয়তের তাফসীরে লিখেছেন, জিনদের মধ্য থেকে কোনে ানবী আসেননি। জিনদের মধ্য থেকে এসেছেন নাযযারাহ বা সতর্ককারী। এরপর তিনি তার বক্তব্যের স্বপক্ষে তিনি কুরআনের অন্য একটি আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেন।

সুরাহ আল আহকাফ এর ২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন কুরআন পাঠ শেষ হলো,  তখন তার (জিন) তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেলো’।

সুতরাং বুঝা গেলো আগের আয়াতের তোমাদের মধ্য থেকে কথা দ্বারা জিনদের ব্যপারে উদ্দেশ্য হলো রাসুলদের পাঠানো দূত।

ইমাম যাহাক রহ. এর মতে জিনদের মধ্য থেকে নবী এসেছেন। তাকে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি কি শোননি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ‘‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী রাসুলগণ আসেননি’?সুরাহ আল-আনআম, আয়াত নং ১৩০।

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মানুষ ও জিন সম্প্রদায়ের রাসুলদের কথা বলেছেন।(তথ্যসুত্র:ইবনে জারীর)

আল্লামা ইবনে হাযম রহ. বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ সা. এর আগে মানুষদের মধ্য থেকে জিনদের প্রতি কোনো নবী রাসুল আসেনি। কারণ তারা মানুষ বা মানব জাতির মধ্যে শামিল নয়।

অপর দিকে রাসুল সা. বলেছেন, পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে নবী-রাসুল করে পাঠানোা হয়েছিলো।

শুধুমাত্র মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ সা. যেহেতু সমস্ত মাখলুকাতের নবী সেহেতু মুহাম্মদ সা. এর আগমের পর জিনদের মধ্য থেকে নবী বা রাসুল আসেননি কিন্তু মুহাম্মদ সা. এর আগে জিনদের মধ্য থেকেই নবী-রাসুল এসেছে।

হযরত আব্বাস রা. এর থেকেও এরুপ একটি মত পাওয়া যায়। আল্লাহর বাণী ‘জমিন সপ্তাকাশের অনুরুপ’ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, আসমান যেমন সাতটি জমিনও সাতটি। সব জমিনেই হযরত আদমের মতোএকজন আদম আছে, ইবরাহিমের মতো একজন ইবরাহিম আছে, ঈসার মতো একজন ঈসা আছে।(তথ্যসুত্র:ইবনে জারীর)

তবে অনেক আলেম এর ব্যাখ্যা এরুপ করেছেন, তারা ছিল কিছু জিন। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহ তাদের জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারা মানুষের মধ্য থেকে আবির্ভূত রাসূলগণের হিদায়তের বাণী মেনে চলেছেন। এরপর নিজ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদের হুশিয়ারি করেছেন।

জিনদের মধ থেকে নবী বা রাসুল এসছিলো কি না এব্যপারে মত পার্থক্য থাকলেও হযরত মুহাম্মদ সা. এর আগমনের পর তিনিই ছিলেন জিন ও মানব জাতির জন্য একমাত্র রাসুল এ ব্যপারে সবাই একমত। কেননা রাসুল সা. নিজেই বলেছেন, ‘আমি জিন ও মানব জাতির প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি’ (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল মসজিদ হাদিস নং ০৩, মুসনাদে আহমাদ ১:২৫০, েইবনে হাব্বান হাদিস নং২০০, তাফসিরে ইবনে কাসীর ৬:১০০।

সুত্র: জিন ও ফেরেশতাদের বিস্ময়কর ইতিহাস। পৃষ্ঠা ৬৩-৬৬।

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ