আওয়ার ইসলাম : বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার দু’টি প্রধান ধারা – আলিয়া এবং কওমি৷ আলিয়া মাদ্রাসা সরকার স্বীকৃত৷ আর কওমি মাদ্রাসাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি৷
স্বীকৃতি দেওয়ার পর আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে কওমি মাদ্রাসা৷ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার মাস্টার্স-এর সমমান ঘোষণা করা হয়েছে৷ যদিও অন্যান্য স্তরের মান কী হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি৷ এছাড়া আর দাওরায়ে হাদিস-এর মান নির্ধারণ নিয়েও জটিলতা আছে৷ কারণ কওমি শিক্ষার মধ্যে নানা ভাগ থাকায়, কেউ ন'বছর পড়াশুনার পর আবার কেউ ১২ বছর পড়াশুনার পর দাওরায়ে হাদিস পাশ করেন৷
১৮৬৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই উপমহাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার শুরু৷
এই শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত আলিয়া মাদ্রাসাকে চ্যালেঞ্জ করে গড়ে ওঠে, তাও আবার কোনো প্রকার সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই৷ আর এখন তারা সরকারের স্বীকৃতি নিলেও, কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা নিতে রাজি নয়৷

কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই
কওমি মাদ্রাসাকে সরকারের মনিটরিং বা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা ছিল অনেক আগে থেকেই৷ এ ধরনের মাদ্রাসার শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়৷ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে ১৭ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়৷
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঐ বছরের ২৮ আগস্ট ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩' মন্ত্রিসভায় উঠানো হয়৷ যদিও মন্ত্রিসভা সেই আইনের খসড়া প্রত্যাহার করা৷ শেষ পর্যন্ত ১১ এপ্রিল শাহ আহমদ শফীর শর্ত মেনে নিয়ে তাঁর উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন৷ কিন্তু কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সংস্কারে যে কমিশন হয়েছে, আহমদ শফীর নেতৃত্বে তাতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি নেই৷
কওমি স্বীকৃতিকে কোনো সংকীর্ণ জায়গা থেকে দেখা উচিৎ হবে না: মিজানুর রহমান খান