শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
উলামা মাশায়েখ ও মাদরাসার ছাত্রদের সম্মানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর ইফতার মাহফিল  খতমে নবুওয়াত বিরোধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা : প্রধানমন্ত্রী ২ দিন বৃষ্টির আভাস জানিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা ১৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করল ভ্রাম্যমাণ আদালত শেয়ার বাজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ বাড়বে: অর্থমন্ত্রী রমজান উপলক্ষে ৮২৩ খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় আরব আমিরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের আটজনের দফতর বণ্টন কে কোন দফতরে? রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলা হোটেল বন্ধ রাখার আহ্বান খেলাফত মজলিসের ‘মানুষকে ডাক্তারের পেছনে নয়, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে’

দুই দাবিতে ৭ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি দিল ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

noor_hosen

ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে উপমহাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর নাম বাদ না দিলে এবং সড়কের নামফলকে তাদের নাম পুন:সংযোগ না করলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবী আদায়ে আগামী ৩১ মার্চ রাজধানী বাইতুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশসহ ৭ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচি হচ্ছে, সারাদেশে ব্যাপক গণ-সংযোগ। জেলা ও বিভাগীয় শহরে ওলামা ও সুধি সমাবেশ। জাতীয় ওলামা ও সুধি সমাবেশ। সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও। মানববন্ধন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত ও স্মারকলিপি পেশ। এসব কর্মসুচির তারিখ পর্যায়েক্রমে ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর বিরুদ্ধে মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবিরের দায়ের করা রিটের মাধ্যমে গোটা আলেমসমাজ, মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামী জনতাকে স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকার অপবাদ দিয়ে সম্মানহানি করার ষড়যন্ত্র চলছে। অবিলম্বে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে এ দুই বুযুর্গের নাম বাদ দিয়ে সড়কের নাম পুনঃর্বহাল করা না হলে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

‘ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি’র আহবায়ক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা ক্বারী শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেণ দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহ সভাপতি, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জামিয়া মুহাম্মদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় ইমাম সমাজের সভাপতি হাফেজ মাওলানা কারী আবুল হুসাইন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফয়জুল করীম কাসেমী, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা সাঈদুর রহমান, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা আকরাম হুসাইন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমীরে শরীয়ত হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. বাংলাদেশের অবিসংবাদিত বুজুর্গ, সমকালীন রাজধানীর প্রবীণতম আলেম যিনি চল্লিশের দশক থেকে ঢাকায় ইসলামপ্রচার, ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শের প্রসার, সমাজসেবা, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে নিজেকে অকল্পনীয় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে হাফেজ্জী হুজুরের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। যুদ্ধ চলাকালিন তিনি তাঁর অনুসারী আলেম-উলামা ও জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, এ সংগ্রাম জালিমদের বিরুদ্ধে মাজলুমদের সংগ্রাম। তোমরা মাজলুমদের পক্ষ হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। তাঁর এ ঘোষণার পর দেশের হাজার হাজার আলেম-উলামা ও তার অনুসারীগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।এমতাবস্থায স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় হাফেজ্জী হুজুরের নাম দেখে তাঁর সকল ছাত্র-ভক্ত ও গুণগ্রাহীগণ সীমাহীন বিস্মিত ও চরমভাবে ব্যথিত। দেশবাসীও হতবাক।

অন্যদিকে মুফতি আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহ. এদেশের একজন প্রথিতযশা ইসলাম বিশেষজ্ঞ বুজুর্গ আলেম।তিনি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব ছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কোন নেতিবাচক ভূমিকা কল্পনাও করা যায় না। তিনি ছিলেন রাজধানী ঢাকার সর্বজনমান্য মনীষী আলেম। কতিপয় নাস্তিকের প্ররোচনায় এ মহান বুযুর্গদের নাম স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকাভূক্ত করা হলে দেশের জনগন চক্রান্ত কারীদের রুখে দাঁড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের নামে রাজধানীতে কোন সড়কের নামকরণের দাবী বা চেষ্টা তাঁর স্বজন ও ভক্তদের পক্ষ থেকে কখনোই করা হয়নি। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন স্বপ্রণোদিত হয়ে তাঁর নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের সম্মুখস্থ সড়কটির নাম ‘মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক’ রাখেন। বিশেষকরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় মেয়র হানিফ ও বঙ্গবন্ধুকন্যার অনুমোদনেই এ নামকরণ হয়। দীর্ঘদিন তাদের নাম বহাল থাকার পর, মূল রিটে এ নাম না থাকা সত্তে¡ও সম্পূরক আবেদনে হাফেজ্জী হুজুরের নাম কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেন তা জাতির কাছে একটি জিজ্ঞাসা হয়েই থাকবে। উচ্চ আদালতও কিসের ভিত্তিতে তাঁর নামে সড়কের নামকরণ সঠিক হয়নি বিবেচনা করে সেটি বাতিল করে নামটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, হাফেজ্জী হুজুর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন রাজনীতির সাথেই যুক্ত ছিলেন না। তাঁর স্বাধীনতা বিরোধী হওয়ার কোন সুযোগ নেই এবং এ সম্পর্কিত কোন যুক্তি বা তথ্য-প্রমাণ কারো কাছেই পাওয়া যাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী কোন সংগঠনের সাথে তাঁর দূরতম কোন সম্পর্কও ছিল না। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এবং সর্বজনমান্য আলেম, ইমাম ও পীর হিসেবে মজলুম বাঙ্গালীদের পক্ষে ও জালেম পাক-বাহিনীর বিপক্ষে সাধ্যমত ভূমিকা রেখেছেন।

আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ