নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আ’লা রাসূলিহিল কারীম। আম্মা বা’দ-
মুহতারাম ওলামায়ে কেরাম!
সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাদেরকে এই ক্রান্তিকালে মাদারিসে দ্বীনিয়্যাহ, তথা কওমী মাদরাসার সুরক্ষা, তা’লীম-তারবিয়াত, দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বর্তমান নানামুখী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, ওলামায়ে কেরাম ও মাদারিসে দ্বীনিয়্যার ঐক্যকে আরো মজবুত করণের বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য এই সম্মেলনে যোগদান করার তাওফীক এনায়েত করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, দেশের নানা প্রান্ত থেকে কষ্ট করে এতে শরীক হওয়ায়, আমি আপনাদের সকলকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমাদের এই উপস্থিতি কবূল ও মঞ্জুর করেন। আমীন!
মুহতারাম হাজিরীন!
কওমী মাদ্রাসা আমাদের কাছে আকাবির ও আসলাফের রেখে যাওয়া আমানত। আমরা সবাই এই আমানত রক্ষায় বদ্ধপরিকর। কওমী মাদ্রাসার ইতিহাস-ঐতিহ্য আমাদের কারো অজানা নয়। এই মাদ্রাসাসমূহ দারুল উলূম দেওবন্দের আদলে পরিচালিত হয়ে থাকে। আর দারুল উলূম দেওবন্দ হলো একটি ইলহামী এদারা এবং এর সূচনা, শিক্ষাকারিকুলাম ও শিক্ষা ব্যবস্থা; সবই ইলহামী।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর ভারত উপমহাদেশের উলামায়ে কেরাম ও মুসলমানদের উপর যে বিপর্যয় নেমে আসে, তা থেকে উত্তরণের জন্য ১৮৬৬ সালে এই ইলহামী এদারা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি এই দারুল উলূম দেওবন্দ দ্বীন ও ইসলামের বহুমুখী খিদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। যার ফলে ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সারা পৃথিবীতে সর্বত্র ও সর্বমহলে দারুল উলূম দেওবন্দ একটি বহুল পরিচিত নাম। বৃটিশ সা¤্রাজ্যবাদিদের হাত থেকে এই উপমহাদেশ মুক্ত হওয়ার পেছনে দেওবন্দের অবদান অবিস্মরণীয়। আমাদের কওমী মাদ্রাসাসমূহ সেই দারুল উলূম দেওবন্দের অনুসারী। দেওবন্দের মতই এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী সভ্যতা, সংস্কৃতি, ঈমান-আকীদা, আমল-আখলাক ও নৈতিক চিন্তাধারা পরিগঠনে মৌলিক ভূমিকা পালন করে আসছে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে সৎ চরিত্রবান, দেশপ্রেমিক সুনাগরিক তৈরী করাই হচ্ছে কওমী মাদরাসার বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ইসলামের মহান বাণী সর্বস্তরের জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই কওমী মাদ্রাসার কাজ। দল-মত শ্রেণী-গোষ্ঠী নির্বিশেষে, প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসল