fbpx
           
       
           
       
রোযার কাযা ও কাফ্ফারা
জুন ১৫, ২০১৬ ১:৫৫ অপরাহ্ণ

হাসান আল মাহমুদ : রোজা আল্লাহ তায়ালার ফরয বিধান। ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম বিধান। এই রোযা পূর্ববর্তী জাতির উপরও অত্যাবশ্যক ছিল এবং এই উম্মতে মুসলিমার উপরও অত্যাবশ্যক। ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হয়েছে। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩ ) প্রত্যেক জ্ঞানসম্পন্ন, সুস্থ মস্তিষ্ক মুসলমানের উপর পবিত্র মাহে রমযানের রোযা রাখা আবশ্যক।আল্লাহর এই ফরয বিধানে কোনো শিথিলতা চলবে না। বরং শরিয়তের মুকাল্লাফ ব্যক্তির উপর অবস্থা ভেদে পর্যায়ক্রমে নিম্মোক্ত বিষয়গুলো অবধারিত হবে।

রোযার কাফ্ফারা

শরয়ী কোনো কারণ ছাড়াই কোনো ব্যক্তি যদি রোযা না রাখে কিংবা রেখেছে কিন্তু রাখার পরে পানাহার, সহবাসের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে এমন ব্যক্তির যিম্মায় সে রোযার কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টিই আবশ্যক থাকবে।শরয়ী কারণ ছাড়া এক রমযানের যতোটি রোযা রাখেনি বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস, পানহারের মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলেছে এমন ব্যক্তির জন্য কাযা স্বরুপ যতোটি রোযা রাখেনি বা ভেঙ্গে ফেলেছে ততোটি রোযা কাযা হিসেবে রাখা আবশ্যক হওয়ার সাথে সাথে কাফ্ফারা স্বরুপ আরো ৬০টি রোযা একাধারে বিরতিহীন পূর্ণ দুইমাস রাখতে হবে।

এই দুইমাস রোযার মাঝখানে কোনো রোযা ছুটে গেলে কিংবা মহিলাদের ক্ষেত্রে নেফাস বা আরেকটি রমযান মাস এসে যাওয়ার কারণে বিরতি হলেও কাফ্ফারা আদায় হবে না বরং পুণরায় আবার পূর্ণ ৬০টি রোযা একাধারে রাখতে হবে। এই জন্যে কাফ্ফারার রোযা এমন দিন থেকে শুরু করতে হবে যেন মাঝখানে রমযান মাস, মহিলাদের ক্ষেত্রে নেফাস বা শরিয়ত কর্তৃক বছরের নিষিদ্ধ দিন যেমন দুই ঈদের দিন ও ঈদুল আযহার পরের তিনদিন না এসে যায়। হ্যাঁ,  মহিলাদের ক্ষেত্রে কাফ্ফারার রোযা রাখার মাঝখানে হায়েযের দিন (নেফাসের নয়) এসে যাওয়ার কারণে যে কয়দিন হায়েযের কারণে বিরতি হবে তাতে অসুবিধে নেই বরং হায়েয শেষ হওয়া মাত্রই ৬০ দিনের পূর্ণ বাকী কাফ্ফারার রোযা আদায়ে লেগে যেতে হবে। এভাবে যে ব্যক্তির জীবনে যতোটি রমযানের রোযা না রাখা হবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙ্গে ফেলবে সে ব্যক্তির যিম্মায় কাযা স্বরুপ ততোটি রোযা এবং কাফ্ফারা স্বরুপ একেক রমযান মাসের জন্য একটি কাফ্ফারা তথা একাধারে বিরতিহীন পূর্ণ ৬০টি করে রোযা রাখা আবশ্যক থেকে যাবে।

রোযার কাযা

কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক,  জ্ঞান সম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তি রোযা রাখার পর যদি অখাদ্য বস্তু যেমন কাঠ, লোহা, মাটি, পাথর, ময়লা ইত্যাদি খেয়ে ফেলে, বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা সেবন করে, ভুলে পানাহার করার পর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু পানাহার করে বসে, হস্তমৈথুন বা স্ত্রী কিংবা কোনো নারীকে শুধু স্পর্শ প্রভৃতি করায় বীর্যপাত ঘটে গেলে, কানে বা নাকে ঔষুধ প্রবেশ করানোর দ্বারা পেটে চলে গেলে, কুলি করার করার সময় অনিচ্ছাবশত: কন্ঠনালিতে পানি চলে গেলে, পেশাবের রাস্তায় বা স্ত্রীর যোনিতে কোনো ঔষুধ প্রবেশ করায়, নস্যি বা কানে তেল ঢালে, থুথুর চেয়ে পরিমানে বেশি দাঁত দিয়ে বের হওয়া রক্ত কন্ঠনালির নীচে চলে গেলে, রোযাদারের মুখে জোরপূর্বক কোনো কিছু দেওয়ায় তা কন্ঠনালিতে পৌঁছে গেলে, ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করে বা অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেলে, সুবহে সাদিকের পর দাঁতে আটকে থাকা খাদ্য টুকরা মুখ থেকে বের করার পরে তা মুখে পুরে গিলে ফেলে, ইফতারির সময় হয়নি, দিন রয়ে গেছে অথচ সময় হয়ে গেছে মনে করে ইফতারি করে ফেলে, অনুরুপ রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পরে সাহরী খায়, অথবা রোযার কোনো নিয়ত না করে বা করলেও নিয়ত দুপুরের পর করে, তাহলে এমন ব্যক্তির যিম্মায় একেক রোযার পরিবর্তে শুধু কাযা বিকল্প আরেকটি রোযা রাখা আবশ্যক থেকে যাবে। আর এই কাযা রোযা রমযানের পর যথাশীঘ্রই আদায় করে নিতে হবে।কারণ ছাড়া দেরী করলে গোনাহগার হবে।

আর কাযা রোযার জন্যে সুবহে সাদিকের পূর্বেই রোযার নিয়ত করতে হবে।অন্যথায় কাযা রোযা সহীহ হবে না বরং সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করলে সে রোযা নফল হয়ে যাবে। ঘটনাক্রমে একাধিক রমযানের কাযা রোযা কারো যিম্মায় একত্রিত হয়ে গেলে নির্দিষ্ট করে নিয়ত করতে হবে-আজ অমুক বৎসরের রমযানের রোযা কাযা করছি।আর যে কয়টি রোযা কাযা হয়েছে তা একাধারে রাখা মুস্তাহাব, বিভিন্ন সময়ে রাখাও দুরস্ত আছে।কাযা রোযা শেষ করার পূর্বে যদি নতুন রমযান মাস এসে যায় তাহলে উপস্থিত রমযানের রোযাই রাখতে হবে।কাযা রোযা পরে আদায় করে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, এক দেশে রোযা শুরু করার পরে অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে যদি নিজের দেশের তুলনায় ঈদ আগে হয়ে যায় তাহলে নিজের দেশের হিসেবে যে কয়টা রোযা ছুটে গিয়েছে তার বিকল্প হিসেবে ছুটে যাওয়া রোযা পরিমান রোযা কাযা করতে হবে।এবং সেখানে গিয়ে যদি রোযা এক-দুটু বেড়ে যায় তাহলে তা রাখতে হবে।আর রমযান ব্যতীত অন্য নফল রোযা ভঙ্গ হলে শুধু কাযা ওয়াজিব হবে;কাফ্ফারা নয়।