মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন: ইসলামী আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাত মাসের ব্যবধানে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেছেন, অস্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি তেলকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলমান থাকলেও গত এক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গতকাল ও আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এরপরও কাদের সুবিধা দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক না থাকলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ঠুনকো অজুহাতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সরকারের জনবিচ্ছিন্নতার জ্বলন্ত প্রমাণ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কঠোর আন্দোলনে নামবে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরছে। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, সরকার ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অথচ আগের সরকারের সময়ে জ্বালানি তেলের দাম ও এ-সংক্রান্ত সংকট এতটা প্রকট ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের সামনে এসে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, তা পতিত ফ্যাসিবাদ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হতে বেশি সময় লাগে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাজিমুদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম, নগর সহসভাপতি আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নিজামুদ্দিন প্রমুখ।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ