শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


ডাকসু সংগ্রহশালার প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ ছাত্র জমিয়ত নেতার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা পরিদর্শনের পর সেখানে প্রদর্শিত একটি আলোকচিত্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তাকি। তাঁর অভিযোগ, গণআন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের নিপীড়ন ও লাঞ্ছনার দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে, যা তিনি অবমাননাকর বলে মনে করেন।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহমুদুল হাসান তাকি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজকে ডাকসুর সংগ্রহশালা ভিজিট করার পর থেকে দেমাগে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’ তাঁর মতে, একটি গণআন্দোলনের ছবি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শহীদ ও রক্তঝরা মানুষের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো এবং সেই ইতিহাসকে যথাযথভাবে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, ‘জালিমের সামনে তাঁদের অপমানকে স্থায়িত্ব দেওয়া’ কোনোভাবেই গণআন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হতে পারে না। সংগ্রহশালায় কান ধরে বসে থাকার একটি দৃশ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এটিকে আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতীক এবং ভুক্তভোগীকে পুনরায় হেয় করার দৃশ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাহমুদুল হাসান তাকি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব ও নীতি-আদর্শের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতার অবস্থানে গিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ক্ষমতার গদিতে বসেই সেই হাত কেটে ফেলার নামই কি তবে আপনাদের ইসলামী ভ্রাতৃত্ব?’

পোস্টে তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ডাকসু সংগ্রহশালায় ওই সময়ের রক্তাক্ত ইতিহাস, প্রতিরোধের বিভিন্ন ছবি কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র স্থান পেতে পারত।

এর পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের বন্দুকের মুখে কান ধরে থাকার দৃশ্য প্রদর্শন করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, ক্ষমতার দম্ভে সহযোদ্ধাদের ইতিহাসকে এভাবে উপস্থাপন করা ‘রাজনীতি নয়’, বরং ‘আত্মঘাতী দেউলিয়াত্ব ও হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ’।

এ ছাড়া শাপলা চত্বরের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা এবং সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কিছু নেতৃত্বের সমালোচনা করে মাহমুদুল হাসান তাকি তাদের ‘সুযোগসন্ধানী’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও তাঁদের মর্যাদা ও ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছ থেকে যথাযথ প্রতিবাদ দেখা যায় না।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনা নিয়ে রাজনীতি করা নেতাদের ইতিহাস ক্ষমা করবে না। ক্ষমতার বর্তমান অবস্থান একসময় পরিবর্তিত হলেও দেয়ালে টাঙানো এসব ঘটনার স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভের কারণ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ