মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ ।। ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনের নিন্দা হেফাজতে ইসলামের ‘ইসলামী আন্দোলনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের আস্থা ধরে রাখা’ ‘ছাত্র-জনতার রক্ত নিয়ে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি’ হারাম দৃষ্টি কেড়ে নেয় হালাল সৌন্দর্য মাদরাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের  সব আলিয়া মাদরাসায় প্রতিদিন পিটি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক নওমুসলিমদের পুনর্বাসনে খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ প্রতিবাদের ভাষায় অশ্লীলতা: সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন সংকট মাদরাসা শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর আওয়াবিন নামাজের ফজিলত ও নিয়ম

‘ছাত্র-জনতার রক্ত নিয়ে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ছাত্র-জনতার জীবন ও রক্তের বিনিময়ে গঠিত জাতীয় সংসদে দেশ ও জাতির সংকট, সংস্কার এবং মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সংসদে জনস্বার্থের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় বিষয় ও পারস্পরিক দোষারোপই বেশি দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখা আয়োজিত জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছেন, অনেকে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল, সংসদে দেশ ও জাতির সমস্যা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং মুক্তির পথ নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, কেউ ওয়াশিং মেশিন চায়, কেউ একে অপরের নিন্দা করে, আবার কেউ ইতিহাসের খেরোপাতা উল্টায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্র-জনতা আপনাদের তামাশা করার জন্য সংসদে পাঠায়নি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবরচিত আইনে কখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতিগতভাবে ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে। তাই দলের প্রত্যেক কর্মীকে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত ও দলের আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সব দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চাই। কিন্তু কোনো দেশ যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে তা প্রতিরোধ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন বিবেচনায় আমেরিকাকে আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু বলা হয়?

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমবে, অর্থনীতি সচল হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। ‘কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। কারণ নীতির পরিবর্তন ছাড়া শুধু শাসক পরিবর্তনে ইতিবাচক ফল আসে না,’ বলেন তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমেদ আব্দুল জলিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ