নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আরও শাণিত ও কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (২৯ জুন) নবগঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার বৈঠকে তিনি বলেন, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার হবে এবং ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংসদে জনগণের সমস্যা ও সংকট নিয়ে কার্যকর আলোচনা না হয়ে তা ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা অর্জন এবং দলীয় বাকবিতণ্ডার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সংস্কার প্রক্রিয়ার স্থবিরতায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও কৌশলী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই দলটি নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করেছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৮৭ সালে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, দ্বীনদার বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে যে সংস্কারধর্মী রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় আজকের এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাহী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করতেও তিনি দ্বিধা করবেন না। দেশকে সুখী-সমৃদ্ধ করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং শরিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব ও ইসলামের সৌন্দর্য সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতে নবনিযুক্ত মহাসচিব দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম ও মজলিসে শুরার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
আইও/