সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ।। ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৪ মহর্‌রম ১৪৪৮


দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার উপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, জিঞ্জিরাম, অর্জুনডারাসহ জেলার ৩২টি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নদ-নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সোমবার দুপুর ৩টার তথ্য জানিয়ে বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে দুধকুমার নদের পানি ৫৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিচু এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সবজি ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং বসতবাড়িতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুধকুমার নদের তীরবর্তী বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, নদীর পাড়ের নিচু স্থানে বালু তুলে রাখার কারণে পানি উপচে বাড়িঘরে ঢুকছে।

আরেক বাসিন্দা আতিকুর ইসলাম বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়ছে। এতে আমার দুই বিঘা জমির সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে গেছে।

জেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবেই জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। দুধকুমার নদের পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এসএইচ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ