শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ।। ১৪ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৯ শাওয়াল ১৪৪৭


আয়নাটা পরিষ্কার, দাগ তো চেহারায়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ||

রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল, আলাদা আলাদা দর্শন ও  মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু দ্বিচারিতা থাকতে পারে না। বাহিরে এক রকম সাজ ভেতরে আরেক রকম আয়োজন চলতে পারে না। মঞ্চের ভাষণ এবং পত্রপত্রিকায় দেওয়া বক্তব্য-বিবৃতি এক রকম আর ভেতরের চিত্রটা কার্যত ভিন্ন রকম মেনে নেওয়া যায় না। ভেতর ও বাহিরের এই পার্থক্যটা সাধারণ জনগণ তো দূরের কথা নিজ দলের কর্মী-সমর্থকেরাও অধিকাংশই জানতে পারেন না। জানলে হয়তো তারা দ্বিচারিতার এই রাজনীতিকে আর বিশ্বাস করতে চাইবেন না। তবে অন্ধ আনুগত্য, একগুয়েমি ও স্বার্থপরতা এমন তিক্ত বাস্তবতা জেনেও হয়তো হার মানতে রাজি হবে না।

উপরে ইসলাম ইসলাম ভাব ভেতরে ইসলামবিরোধী মনোভাব, মুসলিম বিশ্বসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে আকৃষ্ট করতে পাক্কা ঈমানদারের অভিনয় করা আর অমুসলিম পরাশক্তিগুলোর কাছে নিজেদেরকে ভিন্ন রূপে জাহির করা, বাহিরে দেশপ্রেমের বুলি ভেতরে দেশবিরোধী চুক্তি, মঞ্চে দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা আর পর্দার আড়ালে ওই চুক্তিতে সম্মতি, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে একে অপরের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করা, সার্বজনীন ও সম্মিলিত ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের কৃতিত্বটা এককভাবে নিয়ে নেওয়া এবং জুলুম ও জালিমের দোসর হয়েও বিপ্লবের মহানায়ক হতে চাওয়াই যেন এখনকার চরম বাস্তবতা।

অকুতোভয়, প্রতিবাদী, যোগ্য ও ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, সহনশীলতার পরিবর্তে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে অযথা মব সৃষ্টি, প্রশাসনকে নিজের মত করে ব্যবহার করা, প্রয়োজনে কাউকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করা, বিজয়,পরাজয়, বিপর্যয় ও সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রকৃত কারণগুলোকে এড়িয়ে দুর্বল কারণগুলোকেই পরিকল্পিতভাবে মূল কারণ হিসেবে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা, অন্যায়ভাবে জিতে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা আর শতভাগ নিরপেক্ষ ভোটে হেরে গিয়ে ফলাফল মানতে না চাওয়া, ‘আমি হতে পারবো না তাই আরেকজনকেও হতে দেব না’ এই মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করা, নীতিবান সেজে নিজেই নীতি লঙ্ঘন করা এবং সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করার অসুস্থ প্রতিযোগিতাই যেন এখন রাজনীতির মূলমন্ত্র।

গঠনমৃলক সমালোচনা সহ্য করতে না পারা, যুক্তিসঙ্গত পর্যালোচনা না করে ব্যক্তি আক্রোশে সমালোচনা করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেই দুর্নীতিবাজ হয়ে যাওয়া, নিজেকে ঝানু রাজনীতিবিদ আর বাকিদেরকে বাল্যশিশু মনে করা, চাপাবাজি, ধাপ্পাবাজি, নির্লজ্জ মাতব্বরি, অসংযত আচরণ, আত্মীয়করণ, দলীয়করণ, তৈলমর্দন, একাই একমাত্র নেতা হওয়ার উদ্ভট থিউরি ও বালখিল্যতাই যেন বর্তমান সময়কার রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য উপাদান। উফ! ‘আয়নাটা পরিষ্কার, দাগ তো আমার চেহারায়। ঘরটা আমার অন্ধকার, আলো তো বারান্দায়।’

এ ধরনের অপরাজনীতি যদি আমি পরিহার করতে না পারি তাহলে আমার দ্বারা ইনসাফ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা তো কখনোই সম্ভব নয়। আমার জীবনে আগে আত্মোপলব্ধি আসুক, তারপর আমার নির্লিপ্ততার অবসান হোক। হে দয়াময় আল্লাহ,আমাকে আপনি সঠিক বুঝ দিন, আমিন।

লেখক: মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ