বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। স্বাধীনতা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর যখন হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। অতঃপর ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি জালেম হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে আনে। জন্ম লাভ করে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশ পায় একটি লাল সবুজের পতাকা।
মাওলানা মিয়াজী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক কঠিন। স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে হলে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইনসাফ কায়েমের বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, জনাব আতিকুল ইসলাম ও মাওলানা নূরুর রহমান প্রমুখ।
মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, স্বাধীনতার যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না। এটা ছিল জালেমের বিরুদ্ধে সুবিধা বঞ্চিত মজলুম বাঙ্গালি জাতির সশস্ত্র সংগ্রাম। হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. বলেছিলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রাম। মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করে কেউ দেশপ্রেমিক হতে পারে না। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, স্বাধীনতা উত্তর মানুষ আশা করেছিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে সার্বিক বিকাশ ঘটবে। জুলুম-অত্যাচার ও বৈষম্য দূর হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজ ৫৫ বছরেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। অতএব ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
আলোচনা শেষে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সহ দেশের জন্য জীবন দানকারী সকল শহীদদের স্মরণে এবং ঈদযাত্রায় বিভিন্ন জেলায় সড়ক, রেলওয়ে,নৌপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এমএম/