সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭


সংসদে যেতে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সামনে যত চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবার বিএনপির মিত্র হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। জমিয়তকে বিএনপি যে চারটি আসনে ছাড় দিয়েছে, এর মধ্যে এই আসনটিও রয়েছে। তবে অন্য তিনটি আসনের মতোই এই আসনেও জমিয়ত প্রার্থীকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে সংসদে যেতে।

মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তবে ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি সেই নির্বাচনে বিরোধী সব প্রার্থীর মতো তিনিও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। সেই নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে ধানের শীষ নিয়ে তিনি লড়তে পারছেন না। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিজ দলের প্রতীক খেজুর গাছ নিয়ে। আর এটাই অন্য প্রার্থীদের মতো তাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি এই আসনটি জমিয়তকে ছেড়ে দিলেও স্থানীয় বিএনপি বিভাজিত হয়ে পড়েছে। একটি অংশ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সঙ্গে থাকলেও বড় অংশকে তিনি পাশে পাচ্ছেন না। এর কারণ হলো, এই আসনে বিএনপির দুজন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গিয়াসউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে তিনি প্রার্থিতায় অটল রয়েছেন।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এই জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ইসমাইল কাউসার এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ও খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ প্রার্থী হলেও জোটের স্বার্থে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যেতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে এই আসনটি নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ খ্যাত শামীম ওসমানের দখলে ছিল। তবে এখানে বিএনপির অতীতও উজ্জ্বল। ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে মোহাম্মদ আলী এবং ২০০১ সালে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন।

এবারের নির্বাচনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে দলটির ভোট টানতে পারা। বিএনপির পক্ষ থেকে জোটসঙ্গীদের জিতিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিদ্রোহীদের সরাতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে থাকলে ভোটের মাঠে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তখন মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে বিজয়ী হওয়া অনেকটা কঠিন হতে পারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির একটি বড় অংশ জমিয়ত প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছে না। তারা এখানে দলীয় প্রার্থী চাচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতাদের একটি বড় অংশ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তারা ভোটের মাঠেও আছেন। তবে একটি অংশের অভিযোগ, তিনি ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর আর এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। শুধু ভোট এলেই তিনি এলাকায় আসেন।

যদিও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর সমর্থকরা বলছেন, তিনি নিয়মিতই এলাকায় এসেছেন এবং এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। শামীম ওসমানের মতো গডফাদারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অনেক কিছু চাইলেও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। 

মুফতি মনির কাসেমীর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নিজ দলের প্রতীক জনসাধারণের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত না হওয়া। ধানের শীষ হলে যতটা সহজে তিনি ভোটের বৈতরণী পার হতে পারতেন সেটা খেজুর গাছ দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া দল হিসেবে জমিয়তের তেমন কোনো অবস্থান নেই নারায়ণগঞ্জে। ফলে তাকে ভোটের মাঠে বিএনপির ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে পুরোপুরি পাশে না পেলে তার সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে।

যদিও মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ও তার অনুসারীরা বলছেন, বিএনপি বড় দল হিসেবে কিছুটা মান অভিমান আছে। তবে ভোট যত ঘনিয়ে আসবে তত তা দূর হবে। তারেক রহমান মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করা বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তারা পালন করবেন বলেই আশাবাদী জমিয়ত।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ