বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হিল্লা বিয়ে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট আলোচক ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ একটি বয়ানে আলোচনা করেন। পুরনো সেই বয়ানে হিল্লা বিয়ে নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি এটাকে ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও ঘৃণিত কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইউটিউব ভিডিওর সূত্রে জানা যায়, শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সমাজে প্রচলিত তথাকথিত হিল্লা বিয়ে বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ে মূলত আল্লাহর বিধানকে ফাঁকি দেওয়ার একটি কৌশল, যা ইসলামি শরিয়তের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তিন তালাকপ্রাপ্ত দম্পতিকে পুনরায় একত্র করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে বিয়ে করানো হয়—যেখানে আগে থেকেই তালাক দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে। এটি ইসলামের বিধানকে খেল-তামাশায় পরিণত করার শামিল।
হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের হিল্লা বিয়ে করা ব্যক্তি এবং যার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়—উভয়ের ওপরই অভিশাপের কথা বর্ণিত হয়েছে।
বিশিষ্ট এই দাঈ বলেন, কোনো স্বামী স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর তাদের পুনরায় একত্র হওয়ার সুযোগ শরিয়তে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রাখা হয়েছে—যেখানে নারী স্বাভাবিকভাবে অন্য পুরুষকে বিয়ে করবে, সেই বিয়ে স্বাভাবিকভাবে ভাঙলে তবেই পূর্বের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিয়ের সুযোগ আসতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে কোনো ধরনের পরিকল্পিত বা চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের সমাজে আবেগ বা রাগের বশে তালাককে হালকা করে দেখা হয়, যা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। তিন তালাক দেওয়ার আগে প্রত্যেক স্বামীকে গভীরভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ একবার চূড়ান্ত তালাক হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনার শরিয়তসম্মত পথ সীমিত ও শর্তসাপেক্ষ।
তিনি আরও বলেন, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা হলে ধাপে ধাপে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত, তাড়াহুড়া বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নয়।
শেষে তিনি বলেন, ইসলাম পরিবার ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং তালাককে শেষ ও সবচেয়ে সংবেদনশীল সমাধান হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তাই শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে কোনো হিল্লা বিয়ে বা কৃত্রিম সমাধানের পথ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইও