সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ।। ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৬ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
কেন প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বর্জন, কী বলছে জমিয়ত নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম মসজিদ পরিদর্শনে রাবেতা মহাসচিব জাকাত বোর্ডকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক প্রধান বেছে নিলো হামাস ‘চলো সংসদ’ ঘিরে উত্তাল দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট ইরানে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ধর্মীয় নেতা   নেত্রকোনার সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত অন্তত ৪০ গ্রাম মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিমি বেড়া নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যা: ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অনুদান স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় প্রতিবন্ধী যুবককে পেটাল আর্জেন্টিনা সমর্থকরা

সংস্কার নয়, মূল টার্গেট মাদরাসাব্যবস্থাকেই আঘাত করা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ড. মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন

অবক্ষয় শুধু আমাদের সমাজে নয়, সারা বিশ্বেই ব্যাপক আকারে বিস্তৃতি ঘটেছে। সমাজের অধঃপতনের প্রভাব থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকও মুক্ত নন। ফলে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা লাইমলাইটে আসা ইতিবাচক মনে হয়। এর ফলে মাদরাসাব্যবস্থা সংস্কার হবে।

সমাজের নৈতিকতার অন্যতম কান্ডারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। সেগুলোর সঙ্গে যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িয়ে যায়, তবে এই অঞ্চলের মুসলিম পরিচয় এক সময় বিলীন হয়ে যাবে।

আমার বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যসহ সোস্যাল মিডিয়ায় দেখছি, ইসলামবিরোধীরা এসব ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে পুঁজি করে পুরো মাদরাসাব্যবস্থাকেই বিলুপ্ত করতে মরিয়া।

তারা ব্যক্তির অপরাধকে পুরো ব্যবস্থার অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ রয়েছে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মসজিদ, মাদরাসা, মক্তব, ইবতেদায়ি, খানকাসহ বিভিন্ন ধরনের ইসলামি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এ সংখ্যা ৬–৭ লাখেরও বেশি। এর পাশাপাশি তাবলিগের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ কওমি মাদরাসা ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

যেভাবেই চেষ্টা করা হোক না কেন, দেশের ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। এ দেশে ইসলাম আল্লাহর ইচ্ছায় এসেছে, ইনশাআল্লাহ ইসলাম থাকবে। চেষ্টা করা হলে ৫ আগস্টের মতো আবার জেগে উঠবে।

ভাবতে অবাক লাগে, কিছু LG অ্যাক্টিভিস্টও সমকামিতার জন্য মাদরাসাকে দায়ী করার চেষ্টা করছে! তারা এখন আবার সুফি-সাধুক সেজেছেন!

মাদরাসা বা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কি কখনো LG অধিকারের দাবি করা হয়েছে?

বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের আচরণকে গর্হিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

যারা সমকামিতার মতো বিকৃত আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং যারা শিশু যৌন অপরাধে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ব্যাপক আওয়াজ উঠলে কিন্তু কান্নাকাটির রোল পড়ে যাবে, কারোর কারোর  চিন্তা হবে, 'আব্বু' (পশ্চিমা দাতা দেশ ও সংস্থা) যদি মাইন্ড করে, আবার এনজিও সেক্টরের  অনেকে খাবো কি চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠবেন...

মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিত, মাদরাসাসহ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা।

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিন্তক ও অ্যাকটিভিস্ট

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ