মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আগামীকাল (১৫ জুলাই ২০২৬) ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবেন।

এক. হজ প্যাকেজ বাড়বে না কমবে তা জানা নেই। অন্যবার ব্যাকুল হয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি, কিন্তু এবার সেভাবে চেষ্টা করিনি। তার পরও শুনলাম, গতবারের উড়োজাহাজ ভাড়া ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩০৬ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জনপ্রতি ৯৮ হাজার টাকায় ( ট্যাক্স, চার্জ এবং এজেন্সি কমিশন ছাড়া) হজযাত্রী পরিবহনে সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে।

দেখি কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়!

দুই. ১ জুলাই থেকে হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হয়েছে। প্রাক-নিবন্ধনে খুব সাড়া মেলেনি। কারণ সব এজেন্সি নিবন্ধন করতে পারছে না। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর ৪০ জনের কম হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে এবং ২০২৬ সালের যোগ্য তালিকাভুক্ত ৭৫৮টি এজেন্সির মধ্যে যেসব এজেন্সি কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন করেনি তারা নিবন্ধন করতে পারছে না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে এজেন্সির মালিকরা অযৌক্তিক বলছেন। তাদের কথা, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি, বছর বছর লাইসেন্স নবায়ন করছি- এটা আমার ব্যবসা। হ্যাঁ, আমরা চেষ্টা করেও হাজি পাইনি, তাই বলে আমাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেবেন না! এটা কেমন কথা? পর্যাপ্ত হাজি না হলে তো পরে অন্য এজেন্সির সঙ্গে আমরা সমন্বয় করছিই, তাহলে কেন নিবন্ধন করতে পারব না?

আমার মনে হয়, যাদের কাগজপত্রে কোনো ঝামেলা নেই, এমন সব এজেন্সির ইউজার আইডি খুলে দেওয়া উচিৎ।

তিন. হজ প্যাকেজ যেমনই হোক, হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে। অনিয়ন্ত্রিত মোয়াল্লিম তথা গ্রুপ লিডারের চাপ যেমন কাটাতে পারছে না হজ এজেন্সিগুলো, তেমনি মন্ত্রণালয়ও হজ এজেন্সিগুলোর পাশে সক্ষমতার সঙ্গে দাঁড়াতে পারছে না।

মন্ত্রণালয় একসঙ্গে দু’টো কাজ করে। এক. নিজেরা হাজি নেয় অর্থাৎ তারাও হজ ব্যবসা করে। দুই. হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে।

আমার মনে হয় মন্ত্রণালয়কে ভেবে দেখে দরকার, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজি নেওয়া কতটুকু দরকার? আর নিলেও তারা সংখ্যা কেন বাড়াচ্ছে না? হাজিদের সেবায় তারা কী কী নতুনত্ব আনছে, সেটা ক্লিয়ার করা দরকার। সমালোচকরা বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের লোকজনের সমন্বয়ে হজের সময় যেসব লোকদের পাঠানো হয় কিংবা যারা যায়- তাদের সফর হালাল করতেই জোর করে সরকারিভাবে হাজিদের নেওয়ার রীতি চালু রাখা হয়েছে।

চার. হজ ব্যবস্থাপনায় ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাবের (হজ্জ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- হাব) মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল রয়েছে। এই দেয়ালটা কাদের তৈরি সেটা বের করা দরকার। এটা বের করতে পারলে, হজ ব্যবস্থাপনা মসৃণ হবে বলে আমি মনে করি।

পাঁচ. ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাব হজ ব্যবস্থাপনায় যে কমিটিগুলো করে, যেসব পদক্ষেপ নেয় এগুলোর স্বচ্ছতা কাম্য। সেই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের উচিৎ বিভিন্ন কমিটিতে অভিজ্ঞ আলেম ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা। তাহলে হজ ব্যবস্থাপনায় যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি কমিটিগুলো জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ছয়. হাজিদের উড়োজাহাজ ভাড়া, সরকারি হাজিদের ভোগান্তি, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর ছলচাতুরি নিয়ে আরও আলাপ হতে পারে। আমি মনে করি হওয়া দরকার। পারলে আপনিও অংশ নিন আলাপে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ