|| যুবায়ের আহমাদ ||
এবারের সংসদে বেশ কয়েকজন ইমাম মসজিদের মিম্বার থেকে এমপি হয়েছেন। তবে তাদের অনেকের ইমামতির পাশাপাশি অন্যান্য পেশা আছে। যেমন রংপুরের মাওলানা নুরুল আমীন সাহেব ইমাম, পাশাপাশি ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক। কিন্তু সিলেট-৫ আসনের এমপি মাওলানা আবুল হাসান সাহেব কেবলই ইমাম ও ইসলামি বক্তা থেকে এমপি হলেন।
আজ তিনি সংসদ কাঁপালেন। একজন ইমামও যে এমপি হিসেবেও পারফ্যাক্ট হতে পারেন তার প্রমাণ দিলেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী থেকে আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী; মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশ কিছু বাদ গেল না।
এমন ইতিহাস টান দিলেন, যাতে স্পিকার এবং পুরো সংসদ আবেগতাড়িত হলো, খুশি হয়ে স্পিকার তার সময় ৩ মিনিট বাড়িয়ে দিলেন, তারপর তার এলাকার উন্নয়নের দাবি স্পিকার নিজেও সমর্থন করলেন। সরকারি ও বিরোধী দল সবাই টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যের সমর্থন করল। তিনি তুলে ধরলেন, সময়ে সময়ে ইমাম ও আলেমরা পার্লামেন্টে এ জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তার বক্তব্য তারই পরিণত হবার যথেষ্ট প্রমাণ। আগেও দেখেছি, সম্বোধন আর তৈলাক্ত কথায় সময় না দিয়ে এলাকার জনগণের সমস্যা-সম্ভাবনার কথাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি একদম সাধাসিধে জীবনযাপন করেন। ঢাকার রাস্তায় একদম একা হাঁটতে দেখেছি। তিনি একদমই কর্মতৎপর একজন এমপি৷ এসব আগামীতে আলেমদের সংসদের আসন বাড়াতে ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ!
স্পিকারের ভূমিকাও প্রশংসার দাবি রাখে। সরকারি দলের একজন সদস্য যখন বললেন, বিরোধী দলে মুক্তিযোদ্ধা নেই তিনি নিজেই জবাব দিলেন, বললেন আমি নিজে দেখেছি, গাজী নজরুল ইসলাম রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। চেতনার বাড়াবাড়ির পথ বন্ধ করে দিলেন।
ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার ও মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।
লেখক: কলামিস্ট, খতিব ও শিক্ষক
জেডএম/