|| মুশতারি তাসনিম মুন্নী ||
প্রায়ই দেখা যায় হিফজ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের অতিরিক্ত শাসনের ছবি। আমার খারাপ লাগে। দুপক্ষের জন্যই।
প্রথমত ওই ছোট ছোট শিশুরা হিফজের বেশ কড়া রুটিনে চলে। সামান্য কিছু সময় ছাড়া ওরা বেশির ভাগ টাইমই রিডিংয়ে থাকে। কুরআন ধারণের জন্য এটুকু মেহনত যে করতেই হবে। এই ছোট্ট শিশুরা বেশির ভাগই আবাসিক। পরিবারের বাইরে ওই হিফজ প্রতিষ্ঠানই ওদের আরেকটি পরিবার হয়ে ওঠে। শাসনের পাশাপাশি একটু স্নেহ আর ভালোবাসা ওরা প্রত্যাশা করে। শহর বা গ্রামের মাদরাসাগুলোতে এসব বিষয়ে একটু সচেতনতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় হলো এই ছোট ছোট কোমল বাচ্চাদের যে কুরআনের ধারক হিসেবে তৈরি করেন। যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এদের পেছনে। নিশ্চয়ইই তারা শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তারও এটা খেদমতের পাশাপাশি ক্যারিয়ার। সংসার বহন করার প্রধান পথ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন খুবই কম। পরিবার বা প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে বহুত হিমশিম খেতে হয় এদের। শিক্ষকদের যতটুকু সম্ভব বাড়িয়ে বেতন দিন। তাদের নীরব পেরেশানি যেন ডিপ্রেশন না হয়।
যারা শিখছে এবং যিনি শেখাচ্ছেন সবাইকে আল্লাহ ভালো রাখুক। এমন আচরণ না আসুক যার প্রতিচ্ছবি দেখে মায়েদের মন আঁতকে ওঠে।
এমন দৃশ্য না আসুক যে একজন শিক্ষক হাতে হাতকড়া পরে মাদরাসা ত্যাগ করে। সমাজ আমাদের আলেম সমাজকে নিয়ে কটুকথা না বলুক।
লেখক: সমাজকর্মী ও প্রবন্ধকার
আইও/