|| মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী ||
আজকাল যেভাবে যততত্র মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, আশঙ্কা হচ্ছে খোদা-নাখাস্তা সাধারণ মানুষের মনে আলেমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়ে যাবে। এজন্যে কিছু বুনিয়াদি কথা পেশ করা জরুরি মনে করছি।
বর্তমানে যেসব নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছে, মনে হয় অতিরঞ্জন হবে না তার ৭৫ ভাগই অপ্রয়োজনে হয়েছে, উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেখা যায় শহরের একই মহল্লায় অনেকগুলো মাদরাসা, একই গলিতে একাধিক প্রতিষ্ঠান। অথচ বাস্তবতা হল সবগুলো মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের যদি একটি মাদরাসায় একত্র করা হয়, তারপর এটি ছোটখাট মাদরাসা বলার উপযুক্ত হবে।
অপ্রয়োজনে এত মাদরাসা হওয়ার কারণে অতিরিক্ত শিক্ষকমণ্ডলী, ব্যবস্থাপক কর্মচারীর ব্যয়ভার মুসলিম সমাজকে বইতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও তো ‘যত ভাই তত মাদরাসা’ গড়ে ওঠেছে। এখন আবার মহিলা মাদরাসার ক্ষেত্রে ‘যতবোন তত মাদরাসা’ গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এ সমস্যা কেবল শহরে নয়, গ্রামেও দেখা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু যেসব গ্রামে অর্থবিত্ত কম এবং মকতব মাদরাসার প্রয়োজন বেশি, তাদের নিয়ে ভাবার মতো কেউ নেই। অথচ সেদিকে মনোনিবেশ করার সবচে বেশি প্রয়োজন ছিল।
অনুরূপভাবে বহু এলাকায় প্রাথমিক স্কুলের খুব প্রয়োজন। অথচ সেদিকে কারও মনোযোগ নেই।
মনে রাখতে হবে, অপ্রয়োজনে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা খেদমত নয়, বরং ক্ষতিকর। কারণ, এসবের কারণে দীনী শিক্ষার প্রতি, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ওপর মানুষের আস্থা-ভক্তি দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। লোকেরা একে মৌলভীদের ব্যবসা-ধান্দা মনে করে। এমন দৃষ্টান্তও দুর্লভ নয়, কেউ ব্যবসা বা দোকান খুলে সফল না হওয়ায় এখন ‘মাদরাসা-ব্যবসা’ শুরু করে দিয়েছে। চিন্তা করে বলুন- মাদরাসা কি শিক্ষাদীক্ষার জন্যে, নাকি জীবিকা উপার্জনের জন্যে? এসব নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।
লেখক: ভারতের বিখ্যাত আলেম ও সভাপতি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড
[উর্দু থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ সাইফুদ্দীন গাযী]
এমএম/