|| মুফতি শেখ মু. নাঈম বিন আ. বারী ||
ইনকিলাব, ইনসাফ, আজাদি, জিন্দাবাদ—এসব উর্দু শব্দ নয়। এগুলোর উৎস আরবি ও ফারসি ভাষায়।
উর্দু ভাষায় শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সেখান থেকে জন্ম নেয়নি।
উপমহাদেশের ভাষাগুলো দীর্ঘ ইতিহাসে আরবি–ফারসি থেকে অসংখ্য শব্দ গ্রহণ করেছে—বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়।
তাই এই শব্দগুলো ব্যবহার মানেই কোনো বিশেষ রাষ্ট্র বা রাজনীতির প্রতি পক্ষপাত নয়; এগুলো আমাদের ভাষার ইতিহাসেরই অংশ।
নতুন ভদ্রলোকেরা আজকাল আমাদেরকে বাংলা ভাষার জ্ঞান দিতে এসেছে। অথচ নবম-দশম শ্রেণির বহুল প্রচলিত 'বাংলা ভাষার ব্যাকরণ' বইয়ের ৭নং পৃষ্ঠায় কী লিখেছে দেখুন!
ভাষা:
মিশ্র শব্দ: কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দ দ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন, রাজা-বাদশা (রাজা তৎসম ও বাদশা ফার্সি), হাট-বাজার (হাট বাংলা বাজার ফার্সি), হেড-মৌলভী (হেড ইংরেজি ও মৌলভী ফার্সি), ডাক্তার-খানা (ডাক্তার ইংরেজি ও খানা ফার্সি), চৌ-হদ্দি (চৌ ফারসি ও হদ্দি আরবী) ইত্যাদি।
জ্ঞাতব্য তে বলা হয়েছে যে, বাংলা ভাষার শব্দসম্ভার দেশি ও বিদেশি সংস্কৃত- যে ভাষা থেকেই আসুক না কেন,এখন তা বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ। এগুলো বাংলা ভাষার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে, বাংলা থেকে আলাদা করে এদের কথা চিন্তা করা যায় না। যেমন: টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, রেডিও, স্যাটেলাইট ইত্যাদি প্রচলিত শব্দের কঠিনতর বাংলা পরিভাষা সৃষ্টি নিষ্প্রয়োজন।
আইএইচ/