নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শিশুদের সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বোর্ড অব গভর্নরসের ২৩৭তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তা থেকে শিশুদের সকালে পবিত্র কোরআন শিক্ষা, আদব-কায়দা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে এ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। মক্তব শিক্ষাকে যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এর প্রকৃত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বোর্ড অব গভর্নরসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তা বাস্তবায়নে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মক্তব শিক্ষা কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বিষয়ে একটি বিশেষ সংস্কার কমিটি গঠনের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
এ সময় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হাফেজদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ধর্মমন্ত্রী বলেন, নির্ভুলভাবে ৩০ পারা কুরআন হিফজ করানো ও শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হাফেজরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সুনির্দিষ্ট কোনো ভুল না থাকলে তাদের এ অনন্য অবদান উদারভাবে মূল্যায়ন করা এবং অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ ও জনগণের জন্য বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
সভায় মক্তব শিক্ষা কার্যক্রমকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, নিজ নিজ এলাকায় তদারকি জোরদার এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত রূপকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার চলতি মেয়াদে দেশব্যাপী ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগ আরও বেগবান হবে।
সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য সচিব ও মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বোর্ডের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন।
আইও/