মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ঈমান-আকিদা সংরক্ষণে উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে ৭ দফা দাবি পেশ আটক ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ তালেবান সরকারের ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল ও হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের আলিমে ভর্তি শুরু ২০ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার’  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ফরিদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা জরিমানা   রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখানের দাবি ড. সরোয়ারের হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে মুসলিম ছাত্রীর আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

গাজায় জানাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ১৪


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত বছরের অক্টোবরে নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা থামেনি। গতকাল শুক্রবার গাজা জুড়ে চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি জানাজার মিছিলে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন আটজন।

শনিবার (১৮ জুলাই) গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজার জন্য নুসেইরাতের আহমদ ইয়াসিন মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখান থেকে জানাজার মিছিলটি বের হওয়ার মুহূর্তেই শোকাহত জনতাকে লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে সরাসরি বোমা ফেলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। আল-আওদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। মসজিদ থেকে জানাজা শেষ করে মানুষ যখন বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মিছিলের মাঝখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি—তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবরটি তারা খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।

এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যস্থতাকারীদের চোখের সামনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নাগরিকদের হত্যা ও সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে।

জানাজায় হামলা ছাড়াও শুক্রবার গাজার অন্যান্য অংশেও প্রাণহানি ঘটেছে। উত্তরের বেইত লাহিয়া এলাকায় একটি স্কুলের পাশে ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া আজ-জাওয়াইদা এবং আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থলে হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটিতে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।

আমেরিকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকার পরও গত মে মাস থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা আরও বেড়েছে। গত মাসে ইসরায়েল গাজায় ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’ গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৭৪ জন শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অর্থাৎ, গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশু হত্যা করা এখন ইসরায়েলি সেনাদের কাছে ‘নৈমিত্তিক বিষয়ে’ পরিণত হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ