বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ।। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৪ জিলহজ ১৪৪৭


বীর শহীদ’ খেতাব পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে প্রাণ দেওয়া তিন মুসলিম


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত তিন মুসলিমকে ‘বীর শহীদ’ হিসেবে স্মরণ করছেন স্থানীয় মুসলিমরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ১৪০ শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে তারা প্রাণ হারান।

গত সোমবার সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে দুই কিশোর বন্দুকধারী হামলা চালায়। এতে নিহত হন মসজিদের নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ (৫১), নাদির আওয়াদ (৫৭) এবং মানসুর কাজিহা (৭৮)। মানসুর কাজিহা স্থানীয়ভাবে ‘আবু ইজ্জ’ নামে পরিচিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানান, তিনজনই হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে শিশু ও মুসল্লিদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে বলেন, ‘তারা আমাদের সম্প্রদায়ের ভাই। আমরা তাদের শহীদ ও বীর হিসেবে স্মরণ করব।’

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের বয়স ছিল ১৭ ও ১৮ বছর। তারা মসজিদে ঢোকার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আমিন আবদুল্লাহ দ্রুত তাদের মুখোমুখি হন। তিনি পাল্টা গুলি চালানোর পাশাপাশি রেডিওতে সবাইকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে আহত অবস্থাতেও তিনি হামলাকারীদের মসজিদের মূল ভবন থেকে বাইরে পার্কিং এলাকায় ঠেলে দিতে সক্ষম হন। একপর্যায়ে সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এরপর হামলাকারীরা আবার মসজিদের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালায়। তবে আগেই লকডাউন কার্যকর হওয়ায় অধিকাংশ কক্ষ খালি ছিল। পরে তারা বাইরে বের হলে মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন। এ সময় মানসুর কাজিহা জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করতেও সক্ষম হন। পরে দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘তিনজনের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। তারা হামলাকারীদের বিলম্বিত না করলে আরও অনেক মানুষ নিহত হতে পারতেন।’

স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, নিহত তিনজনই ছিলেন মসজিদের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ। তারা নিয়মিত মুসল্লিদের স্বাগত জানাতেন এবং মসজিদকে একটি নিরাপদ ও আন্তরিক পরিবেশে পরিণত করেছিলেন।

দীর্ঘদিনের মুসল্লি মাহমুদ আহমাদি বলেন, আমিন আবদুল্লাহ সবসময় হাসিমুখে সবাইকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে অভিবাদন জানাতেন।

আমিন আবদুল্লাহর মেয়ে হাওয়া আবদুল্লাহ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, তাঁর বাবা দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি এতটাই দায়িত্বশীল ছিলেন যে অনেক সময় ডিউটির সময় খাবারও খেতেন না। কারণ তাঁর ভয় ছিল, বিরতিতে গেলে হয়তো কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও এখানে রমজানে ইফতার ও সেহরির আয়োজন, আরবি ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং একটি ইসলামিক স্কুল পরিচালিত হয়।

সূত্র: এপি নিউজ

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ