রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ।। ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৭ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আমিরাত-কুয়েতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী ঢাকায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকালে ইসলামি দলগুলোর শোক চট্টগ্রামের বন্যায় ঘরহারা ৩০০ পরিবারকে ঘর করে দেবে আস-সুন্নাহ জোট মানে নীরব সমর্থন নয়, সরকার ভুল করলে প্রতিবাদ করব: জমিয়ত মহাসচিব দাওরায়ে হাদিসের ‘তাকরির’ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার জরুরি নির্দেশনা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন স্থগিত মধ্যরাতের মধ্যে ঢাকাসহ ২০ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস

যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়ালেও রয়ে গেছে বৈষম্য ও ইসলামোফোবিয়া


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছেছে। তবে জনসংখ্যাগত এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক বঞ্চনা এবং ইসলামোফোবিয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে এক নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, Muslim Council of Britain (এমসিবি) প্রকাশিত “British Muslims in Numbers” শীর্ষক গবেষণায় গত দুই দশকে ব্রিটিশ মুসলিমদের জনমিতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে মুসলিমের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৩৮ লাখ। এছাড়া স্কটল্যান্ডে ১ লাখ ২০ হাজার, ওয়েলসে ৬৭ হাজার এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১১ হাজার মুসলিম বসবাস করছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মুসলিম সমাজ তুলনামূলকভাবে তরুণ। মুসলিমদের প্রায় ৪৬ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ২৯ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রায় অর্ধেক ব্রিটিশ মুসলিমই যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী। গবেষকরা এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য একটি সম্ভাবনাময় “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইতিবাচক এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মুসলিমদের জীবনমানে বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বলা হয়, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র ৪৬টি জেলার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম বসবাস করেন। গত দুই দশকেও এই চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি, যা সীমিত সামাজিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কিছু অগ্রগতিও লক্ষ্য করা গেছে। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী মুসলিম তরুণদের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে। পাশাপাশি মুসলিম নারীদের কর্মসংস্থানও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও উচ্চপদস্থ পেশায় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিও বাড়ছে বলে অন্য এক জরিপে উঠে এসেছে। “The Crisis of Belonging” শীর্ষক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ৫১.৯ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম মনে করেন তারা যুক্তরাজ্যের সমাজের অংশ হিসেবে নিজেদের সম্পৃক্ত অনুভব করেন। ২০১৬ সালে এই হার ছিল ৯৩ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে ইসলামোফোবিয়া, রাজনৈতিক বৈরিতা ও সামাজিক অনিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে মুসলিম ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এমসিবি সতর্ক করে বলেছে, মুসলিম ভোটারদের একক রাজনৈতিক ব্লক হিসেবে দেখা উচিত নয়; তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি বৈচিত্র্যময়।

সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ