মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

বাবরি মসজিদ ধ্বংস তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যানের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্তে গঠিত লিবরহান কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মনমোহন সিং লিবরহান (এম. এস. লিবরহান) মারা গেছেন। রোববার (২ আগস্ট) ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৩৮ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী বিচারপতি লিবরহান আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন হরিয়ানার আম্বালায়। পরে তিনি চণ্ডীগড়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। শুরুতে তিনি ‘মনমোহন সিং’ নামেই পরিচিত ছিলেন। একই নামে একাধিক আইনজীবী থাকায় এক বিচারকের পরামর্শে তিনি নিজের সম্প্রদায়ের নাম ‘লিবরহান’ পদবি হিসেবে গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে তিনি বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও সরকারের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৯৩ সালের মার্চের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৪৩ দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রায় ১৭ বছর পর, ২০০৯ সালের ৩০ জুন কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। দীর্ঘ তদন্তকালীন সময়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও কমিশনের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

তদন্ত চলাকালে ২০০১ সালে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি লালকৃষ্ণ আদভানি কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেন। বাবরি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে পরিচিত আদভানি কমিশনের কাছে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

২০০৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিচারপতি লিবরহান জানিয়েছিলেন, অযোধ্যা-সংক্রান্ত সব নথি তিনি ১৬ বার পড়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার মাঝপথে তাঁর আইনজীবী দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় তাঁকেই পুরো নথিপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হয়েছিল।

বিচারপতি লিবরহান স্পষ্টভাষী ও নীতিনিষ্ঠ বিচারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মনে করতেন, বিচারকদের পরিচয় হওয়া উচিত তাঁদের রায়ের মাধ্যমে, বক্তৃতার মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে তিনি বিচারকদের বিচারিক দায়িত্বে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ব্যক্তিগত মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গি আদালতের রায়ে প্রভাবিত না করার পক্ষে মত দেন।

তিনি হরিয়ানার অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। পরে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ বিচারিক জীবনে তিনি ভারতের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

সূত্র: দ্য ওয়্যার উর্দু

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ