বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ।। ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৫ সফর ১৪৪৮


এবার জামায়াত জোট ছাড়তে যাচ্ছে এনসিপি!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত রাজনৈতিক জোটে অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলন জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, জোটে থেকে রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধা, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

দলীয় নেতাদের মতে, এনসিপির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা। তাদের ধারণা, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সেই পরিসর সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট গড়ে উঠলে সেখানে আরও কার্যকর নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট একীভূত করার লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল ঐক্যবদ্ধ হয় । পরে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি যুক্ত হলে এটি ১১-দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতাসহ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে নির্বাচন শুরুর আগেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যায়। নির্বাচন শেষে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে ঘোষণা দিয়ে জোট ত্যাগ করে খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশ।

এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার প্রক্রিয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে এনসিপির ভূমিকা কী হতে পারে, সে বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

দলের রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্য জানান, জুলাই মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। ইতোমধ্যে দলটি পাঁচটি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম চলছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দলীয় সূত্রের ভাষ্য, রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণে মনোনয়নের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ও জোটগত—উভয় পর্যায়েই আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা সমন্বিত কৌশলের পক্ষেই রয়েছেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ