ইমরান ওবাইদ, সাব-এডিটর
২০২৫ সালে পুরো বিশ্ব থেকে ১ কোটি ৯৫ লাখেরও বেশি হজ ও ওমরাহ যাত্রী সৌদি সফর করেছেন। যার মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ওমরাহ যাত্রী এবং ১৫ লাখ হজ যাত্রী রয়েছেন। সে হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।
সৌদি সরকারের ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর অন্যতম ‘দুয়ুফ আর-রহমান’ (আল্লাহর মেহমান) সেবা কর্মসূচি-২০২৫ সালের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যটক গ্রহণে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং অর্জন করা দেশগুলোর অন্যতম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। যার মধ্যে মক্কা পঞ্চম স্থান এবং মদিনা সপ্তম স্থানে রয়েছে।
হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সন্তুষ্টির হার ছিল অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি, যা সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০-এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হজে সন্তুষ্টির হার ছিল ৯১ শতাংশ এবং ওমরায় ৯৪ শতাংশ।
২০২৫ সালে মসজিদে নববীর ‘রওজা শরিফে’ ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি হজ ও ওমরাহযাত্রী গিয়েছেন। এ সময় তাঁদের সন্তুষ্টির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ৫৭ শতাংশ। যার মাধ্যমে চলমান প্রচেষ্টার সুফল ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে সৌদি সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’-এর বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৬০টিরও বেশি সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৮৭টি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সবগুলোর শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কা-মদিনায় পর্যটন স্পট বেড়ে ৮৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করেছে। এটি তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে তাঁদের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২০২৫ সালে হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সেবা প্রদানে ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি পুরুষ ও নারী স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও, ডিজিটাল পরিষেবার উন্নতির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরটিতে ওমরাহ এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৩ শতাংশই ছিল ওমরাহ ভিসা। সর্বোচ্চ সংখ্যক ওমরাহ ভিসা প্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং মিসর।
সূত্র: সৌদি গেজেট
আইও/