রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


হাম্মাদ (রহ.)-এর মজলিসে শিক্ষকের সান্নিধ্য 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী || 

প্রথম দিন নু'মান মজলিসে বসল। উস্তাদ আলোচনা করছেন। তার আলোচনা শুনে তিনি বুঝতে পারলেন— এখানে শুধু কথা শোনান হয় না, এখানে চিন্তা করতে শেখানো হয়।

মজলিসে অনেক ছাত্র। কেউ লিখছে। কেউ মন দিয়ে শুনছে। কেউ আবার কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করছে। মাঝখানে বসে আছেন হাম্মাদ (রহ.)। তাঁর কথায় দৃঢ়তা আছে, কিন্তু রুক্ষতা নেই। তিনি ছাত্রদের কথা মন দিয়ে শুনছেন।

একজন ছাত্র প্রশ্ন করল, হুজুর, এই মাসআলার ক্ষেত্রে যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে কী হবে?

হাম্মাদ (রহ.) সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন না। তিনি বললেন, আগে পুরো ঘটনাটি বলো।

ছাত্রটি বিস্তারিত বলল। তার থেকে বিস্তারিত শুনে হাম্মাদ (রহ.) বললেন, দেখো, বিষয়টি শুধু একটি বাক্যে শেষ করা যায় কি না। 

নু‘মানও মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছিল। তিনি বুঝালেন, ফিকহ মানে শুধু মুখস্থ উত্তর নয়। প্রশ্নের ভেতরের প্রশ্নটিও বুঝতে হয়। মজলিস শেষে নু‘মান নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। হাম্মাদ (রহ.) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি নতুন?

— জি।

— নাম কী তোমার?

— নু‘মান।

— তুমি কি এই মজলিসে নিয়মিত আসবে?

নু‘মান বললেন, যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে অবশ্যই আসব।

হাম্মাদ (রহ.) মৃদু হাসলেন। কমল কণ্ঠে বললেন, ইলমের দরজা কারও জন্য বন্ধ নয়। তবে নিয়মিত না হলে ইলম তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না।

কথাটি নু‘মানের খুব ভালো লাগল। পরদিন সে আবার এল। তার পরদিনও এল। এভাবে ধীরে ধীরে মজলিসটি তাঁর জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠল।

ব্যবসার কাজ শেষ করে সে মজলিসে ছুটে আসত। কখনো ক্লান্ত থাকত। তবুও বসত। আলোচনার মধ্যে কখনো কোনো বিষয় কঠিন মনে হলে পরদিন আবার প্রশ্ন করত।

হাম্মাদ (রহ.)-এর কাছে নু'মান শুধু মাসআলাই শিখল না; শিখল ইলমের আদব। এটাও শিখছিল যে, না জানলে স্বীকার করতে হয়। আরো শিখেছিল, দলিল না বুঝে মতামত দেওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া ভিন্ন মতও শুনতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা হল— ইলম মানুষকে বিনয়ী করে।

একদিন মজলিসে একটি কঠিন প্রশ্ন উঠল। অনেক ছাত্র আলোচনা করল। নু‘মানও নিজের বোঝাপড়া অনুযায়ী একটি মত বলল।

হাম্মাদ (রহ.) তাঁর কথা শুনে বললেন,  তোমার চিন্তাটি খারাপ নয়। তবে আরও কিছু বিষয় দেখতে হবে।

নু‘মান মন দিয়ে তার কথা শুনল। তাছাড়া মনে মনে সে খুশিও হল। কারণ, শিক্ষক তাঁর ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। সেদিন বাড়ি ফেরার পথে তাঁর মনে হলো— “যে শিক্ষক ছাত্রের ভুলকে অপমান না করে সংশোধন করেন, তাঁর কাছে আরও অনেক দিন শেখা যায়।” আর সেই দিন থেকেই হাম্মাদ (রহ.)-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু শিক্ষক-শিষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না। তিনি হয়ে উঠলেন তাঁর জীবনের প্রধান শিক্ষকদের একজন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ