পরদিন রাতে আবার সবাই দাদার চারপাশে জড়ো হলো। একজন নাতি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল, দাদা, তারপর কী হলো? নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি সব সময় গোপনেই মানুষকে ইসলাম শেখাতেন?
দাদা মৃদু হেসে বললেন, না দাদু। একদিন আল্লাহ তাআলা তাঁকে নতুন নির্দেশ দিলেন। এবার সত্যের বাণী সবাইকে প্রকাশ্যে জানাতে হবে।
টানা তিন বছর গোপনে দাওয়াত দেওয়ার পর সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এসে গেল। সামনে ছিল ভয়, বিরোধিতা আর নির্যাতনের আশঙ্কা। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আল্লাহর আদেশই ছিল সবচেয়ে বড়।
প্রথমে তিনি নিজের নিকটাত্মীয়দের আহ্বান করলেন। তারপর একদিন সাফা পাহাড়ে উঠে উচ্চস্বরে মক্কার মানুষদের ডাকলেন। কৌতূহলী মানুষ চারদিক থেকে ছুটে এলো।
সবাই জড়ো হলে তিনি শান্ত কণ্ঠে বললেন, আমি যদি তোমাদের বলি, এই পাহাড়ের ওপাশে একটি শত্রু বাহিনী আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?
সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল, অবশ্যই! আমরা তো কখনো আপনাকে মিথ্যা বলতে দেখিনি।
দাদা একটু থেমে বললেন, দেখো, সত্যবাদিতার মূল্য কত বড়! মানুষ তাঁর ওপর এতটাই বিশ্বাস ছিল যে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁর কথা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল।
তারপর নবীজি (সা.) বললেন, আমি তোমাদের জন্য কঠিন শাস্তির আগমনের আগে একজন সতর্ককারী। তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না।
অনেক মানুষের হৃদয় এই আহ্বানে নরম হয়ে এল। কিন্তু যাদের হৃদয় অহংকারে ভরে গিয়েছিল, তারা খুব রেগে গেল। সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করল তাঁরই চাচা আবু লাহাব। সে নবীজি (সা.)-কে অপমান করল এবং তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল। কিন্তু সত্যের আলো কি অপমান দিয়ে নিভিয়ে রাখা যায়? না। আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাব নাজিল করে আবু লাহাবের পরিণতি জানিয়ে দিলেন।
এরপর থেকে নবীজি (সা.) মক্কার অলিগলি, কাবাঘরের আশপাশ এবং মানুষের সমাবেশে একটিই কথা বলতেন- “হে মানুষ সকল! বলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; তাহলেই তোমরা সফল হবে।”
সেদিন থেকেই সত্য ও মিথ্যার সংঘর্ষ স্পষ্ট হয়ে উঠল। উপহাস বাড়ল, নির্যাতন বাড়ল, বাধাও বাড়ল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যত বাধা বাড়ছিল, ততই ইসলামের আলো মানুষের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল।
দাদা গল্প শেষ করে বললেন, মনে রেখো, সত্যের পথে হাঁটতে সাহস লাগে। সবাই তোমাকে সমর্থন করবে না। কেউ হাসবে, কেউ বাধা দেবে। কিন্তু যদি সত্যের ওপর অটল থাকো, ধৈর্য ধরো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো, তাহলে সত্য একদিন অবশ্যই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। এটাই আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের শিক্ষা।
তাহলে ঠিক আছে দাদু ভাইয়েরা, আজ এখানেই গল্পের ইতি টানছি। ইনশাআল্লাহ, আগামীকালও গল্প হবে। তখন তোমাদের শোনাব নবী জীবনের অন্য আরেকটা গল্প।
গল্পে গল্পে প্রিয় নবীজি (পর্ব: ১১)
লেখক: আকিদুল ইসলাম সাদী
চলবে....
আইও/