|| ইমরান ওবাইদ ||
ফেসবুক—বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। হৃদয়ের আবেগ, অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। প্রতিনিয়ত পোস্ট, লাইক, শেয়ার, কমেন্টের মাধ্যমে অনেকেই নিজের অবস্থান জানান দিয়ে থাকে সকলের মাঝে। সুখ-দুঃখের মুহূর্ত শেয়ার করাসহ পছন্দের বিষয়ের প্রশংসা এমনকি অপছন্দের বিষয়গুলোর নিন্দা করা থেকেও বাদ যায় না ফেসবুকের পোস্ট-কমেন্ট থেকে। তবে অনেকেই খেয়াল রাখতে ভুলে যায়—আমাদের লেখা প্রতিটি শব্দ, উচ্চারিত প্রতিটি বাক্য ইসলাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সর্বসময়ের দুই সঙ্গী পর্যবেক্ষণ করে সবকিছু। ভালো-মন্দ যে কাজই করি—টুকে রাখে আমলনামার খাতায়। ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক, তার কাছে একজন (লেখার জন্য) সদা প্রস্তুত প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ: ১৮)
পবিত্র এই আয়াতটি থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়—আমাদের মুখে উচ্চারণ করা কথার মতো ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট, শেয়ার, লাইক বা কমেন্টে লেখা ছোট্ট কথাও ফেলনা নয়। সবকিছুরই হিসাব দিতে হবে আমাদের। তাই উচিত, গিবত, মন্দ কথা এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী পোস্ট থেকে বিরত থাকা। ভালো, উপকারী বিষয় মানুষের মাঝে ছড়ানোর চেষ্টা করা। তাহলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আমলনামায় যুক্ত হবে সদকার সওয়াবও। হাদিসের বর্ণনা আমাদের তাই শিক্ষা দেয়। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৮৯৩)
অন্য হাদিসে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ভালো কথা বলাও সদকা।’ (সহিহ বুখারি)
ফেসবুক হোক দাওয়াতের প্ল্যাটফর্ম:
শেষ নবীর উম্মত হিসেবে আমাদের সকলের ওপরই দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব অর্পিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও।’ (সহিহ বুখারি: ৩৪৬১)
বর্তমান আধুনিক যুগে প্রিয় নবীর এই নির্দেশ পালনের সহজ মাধ্যম হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমগুলো। সহজেই আপন ঘরে বসে আল্লাহ এবং রাসুলের কথাগুলো অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কোরআন-হাদিসের বাণী, জরুরি মাসআলা খুব সহজে জানাতে পারি অন্যদের।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কাজগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়। আজ-কাল বা বছরখানেক পরও যদি কেউ সার্চ করে তার দ্বীনি জরুরত পূরণ করতে পারে, তাহলে তার একটা সওয়াব ওই ব্যক্তির আমলনামায় যুক্ত হবে। ধারাবাহিক এই কাজগুলো আমাদের সদকায়ে জারিয়া ইবাদত হিসেবেও গণ্য হতে পারে। সদকায়ে জারিয়া অব্যাহত উপকার লাভের আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকায়ে জারিয়া সম্পর্কে বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ছাড়া—এক. সদকায়ে জারিয়া। দুই. এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকার লাভ করা যায়। তিন. নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৩১)
তাই দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে এমন কোনো পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্য নেক কাজের সহায়ক হলে তা সদকায়ে জারিয়া হওয়ার সুযোগ রাখে। তবে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্যকে নিশ্চিতভাবে সদকায়ে জারিয়া বলা ঠিক নয়। এর প্রকৃত প্রতিদান আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো দ্বারা ভালো উপকারী কথা, জরুরি মাসআলা, প্রয়োজনীয় নির্ভুল তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
আইও/