বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮


জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কৌশল নিয়ে আলোচনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ইউএনএ নিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার মীরা ভাইন্দর ইউনিট জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উদ্যোগে সমাজ সংস্কার ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমাজে পারস্পরিক আস্থা, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মীরা রোডের লোধা রোডের উমর মসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জমিয়তে উলামায়ে মীরা রোডের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নান্দোলিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে থানে জেলার সভাপতি মুফতি হাফিজুল্লাহ কাসেমি।

তিনি মীরা রোড ইউনিটের সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় বিশেষ বক্তা ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সভাপতি ও আমিরে শরিয়তে মহারাষ্ট্রের সহসভাপতি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি। তিনি বলেন, জমিয়তে উলামার প্ল্যাটফর্মে দ্বীন, জাতি ও উম্মাহর সেবাকে নিজেদের দায়িত্ব ও লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের আকাবিরদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উম্মাহর বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে কর্মীদের সচেতন, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) ও শায়খুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর সংগ্রাম ও ত্যাগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আকাবিররা জাতি ও দেশের স্বার্থে কারাবরণসহ নানা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তাদের ত্যাগ ও সংগ্রাম বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।

মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি শায়খুল হিন্দের মিশনকে এগিয়ে নেওয়া এবং জাতি ও উম্মাহর সেবাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। মদিনা মুনাওয়ারায় প্রায় ১৭ বছর কোরআন-হাদিসের শিক্ষাদানের পর তিনি ভারতে ফিরে এসে জাতি ও দেশের সেবাকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত জাতি ও সমাজের সেবার গুরুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সভায় জনসচেতনতা, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শুধু সরকার বা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি এবং বিশেষ করে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্বশীলদেরও এতে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে এবং অভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একে অপরকে বোঝা, পরস্পরের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে পারলে সমাজে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা ও শান্তির পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

সভায় সমাজ সংস্কারের কার্যক্রম শুধু বক্তব্য ও সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তরুণদের দিকনির্দেশনা, সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে থানে জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আরিফ আনসারির আহ্বানে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক দাবির সিদ্দিকি, সহকারী সম্পাদক আবদুল্লাহ খান, সহসভাপতি মাওলানা ফিরোজ কাসেমি, সহসভাপতি আরিফ হাসনি, সহসভাপতি রিয়াজ আলিগ ও কোষাধ্যক্ষ মাওলানা শের আলিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নান্দোলিয়া দোয়া পরিচালনা করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা সমাজ সংস্কার, উম্মাহর জাগরণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দেশে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় জমিয়তে উলামার প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ