আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে হাফ প্যান্ট বা খাটো পোশাক পরার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে খেলার মাঠ, জিম, সাঁতার কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় অনেকেই এমন হাফ প্যান্ট পরেন, যা হাঁটুর ওপরে উঠে যায় এবং উরুর বড় একটি অংশ অনাবৃত থাকে।
ইসলামে পোশাকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শালীনতা রক্ষা করা এবং শরীরের আবশ্যকীয় অংশ ঢেকে রাখা। পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই শরিয়তে সতর বা আওরাত ঢেকে রাখার বিধান রয়েছে। তাই একজন মুসলিমের জন্য পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা জানা জরুরি।
পুরুষের আওরাত কতটুকু?
শরিয়তের পরিভাষায়, মানুষের শরীরের যে অংশ অন্যের সামনে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ, তাকে আওরাত বলা হয়। পুরুষের আওরাতের সীমানা নিয়ে ফিকহের কিতাবগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
জমহুর ফকিহদের মতে, পুরুষের উরু আওরাতের অন্তর্ভুক্ত। হানাফি ফিকহেও নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পুরুষের এমন পোশাক পরা উচিত, যাতে উরু ও হাঁটুসহ আবশ্যকীয় অংশ ঢাকা থাকে।
উরু ঢাকার বিষয়ে হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সা.) উরু ঢেকে রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে,
“তুমি তোমার উরু উন্মুক্ত করো না এবং কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উরুর দিকে দৃষ্টিপাত করো না।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৩১১৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪৬০)
অন্য এক হাদিসে জুরহাদ (রা.)-এর উরু অনাবৃত দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“হে জুরহাদ! তুমি কি জানো না যে, উরু হচ্ছে আওরাত?” (তিরমিজি, হাদিস: ২৭৯৮; মুয়াত্তা মালিক)
এ ছাড়া আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ আওরাত। (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ৯১৫)
হাফ প্যান্ট পরার হুকুম
হাফ প্যান্ট যদি এমন হয়, যাতে পুরুষের আবশ্যকীয় সতর যথাযথভাবে ঢাকা থাকে এবং উরু ও হাঁটু অনাবৃত না হয়, তাহলে তা পরার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই।
কিন্তু এমন হাফ প্যান্ট পরা, যাতে উরু বা হাঁটুর অংশ প্রকাশ পায়, শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে পরপুরুষ বা পরনারীর সামনে এভাবে শরীরের আওরাত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
তাই খেলার পোশাক, জিমের পোশাক কিংবা ঘরের বাইরে ব্যবহারের পোশাক—সব ক্ষেত্রেই এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত, যাতে সতর যথাযথভাবে ঢাকা থাকে।
নামাজে হাফ প্যান্ট পরা যাবে?
নামাজের অন্যতম শর্ত হলো সতর ঢাকা। তাই এমন পোশাক পরে নামাজ পড়া যাবে না, যাতে নামাজের সময় আবশ্যকীয় সতর অনাবৃত হয়ে যায়।
হাফ প্যান্ট যদি যথেষ্ট লম্বা হয় এবং নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়—বিশেষ করে রুকু ও সিজদার সময়—সতর ঢাকা থাকে, তাহলে শুধু হাফ প্যান্ট হওয়ার কারণে নামাজের সমস্যা হবে না। তবে পোশাক শালীন ও পরিপাটি হওয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক পরিধান করো।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১)
খেলাধুলা ও জিমে কি আলাদা বিধান আছে?
খেলাধুলা, শরীরচর্চা কিংবা জিম করার সময় শরিয়তের পোশাকের বিধান থেকে অব্যাহতি নেই। তাই খেলাধুলা বা শরীরচর্চার জন্যও এমন পোশাক পরা উচিত, যাতে সতর ঢাকা থাকে।
এ ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ট্রাউজার, লম্বা শর্টস বা এমন পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে, যা উরু ও হাঁটুসহ আবশ্যকীয় অংশ ঢেকে রাখে। পোশাক যেন শরীরের গঠনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
মুসলিমের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
ইসলামে পোশাক শুধু শরীর ঢাকার বিষয় নয়; এর সঙ্গে শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও ব্যক্তিত্বের বিষয়ও জড়িত। তাই একজন মুসলিমের পোশাক এমন হওয়া উচিত, যা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলে এবং সামাজিক শালীনতাও বজায় রাখে।
বিশেষ করে তরুণদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফ্যাশন বা প্রচলিত সংস্কৃতির পাশাপাশি ইসলামের বিধানকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। খেলাধুলা, জিম কিংবা দৈনন্দিন চলাফেরা—সব ক্ষেত্রেই সতর ঢাকা নিশ্চিত করা উচিত।
হাফ প্যান্ট পরা নিজে কোনো স্বতন্ত্র সমস্যা নয়; মূল বিষয় হলো এতে শরিয়ত নির্ধারিত সতর ঢাকা থাকছে কি না। যে হাফ প্যান্টে উরু বা আবশ্যকীয় সতরের অংশ অনাবৃত থাকে, তা পরা থেকে মুসলিম পুরুষের বিরত থাকা উচিত।
শরিয়তের বিধান মেনে শালীন ও আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করাই একজন মুসলিমের জন্য নিরাপদ ও উত্তম পন্থা।
এসএইচ/