মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের শঙ্কা! হারামাইনের সাউন্ড সিস্টেম বদলে দেওয়ার কারিগর তুর্কি প্রকৌশলী পাল্টে গেল দাখিল-আলিমের ‘সাধারণ শাখা’র নাম সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দুই জেলায় বিকেএমের পরামর্শ সভা অপরাধী যে-ই হোক, প্রাপ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে: মাওলানা ইউসুফী গোসল ফরজ অবস্থায় করণীয় ও বর্জনীয় যাত্রাবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু সিরাজগঞ্জে ইকোপার্কের গোলঘর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার 

গোসল ফরজ অবস্থায় করণীয় ও বর্জনীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

ইসলামে পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেরই জানা নেই, গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় দৈনন্দিন জীবনের কোন কোন কাজ করা যায় আর কোনগুলো করা যায় না। 

বিশেষ করে সালাম দেওয়া, হাদিসের বই পড়া কিংবা কোরআনের আয়াত পড়ার বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।

এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের বিধান কী—তা জানা জরুরি।

গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই।

অনুরূপভাবে, হাদিস-সংক্রান্ত বই পড়াও যাবে। তবে ওই বইয়ে কোরআনের আয়াত থাকলে গোসল ফরজ অবস্থায় তা পড়া বা স্পর্শ করা যাবে না। যার ওপর গোসল ফরজ, তার জন্য কোরআন তিলাওয়াত করা নিষেধ।

ফরজ গোসল বাকি থাকা অবস্থায় পাঁচটি কাজ করা নিষিদ্ধ—নামাজ আদায়, তাওয়াফ করা, মসজিদে অবস্থান, পবিত্র কুরআন স্পর্শ এবং কুরআন তিলাওয়াত।

এই পাঁচটি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ নিষিদ্ধ নয়। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঋতুবতী নারী ও জুনুব ব্যক্তি (যার ওপর গোসল ফরজ) কোরআনের কিছুই পাঠ করবে না।’ (তিরমিজি: ১৩১; ইবনু মাজাহ: ৫৯৫)

নাপাক অবস্থায় বেশি সময় থাকা উচিত নয়

গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় হাদিস-সংক্রান্ত বই পড়া বৈধ হলেও এ অবস্থায় বেশি সময় থাকা উচিত নয়। প্রথম সুযোগেই গোসল করে পবিত্র হয়ে যাওয়া উত্তম।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখা হলো। তখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়ে চলতে লাগলেন। তিনি যখন বসে পড়লেন, তখন আমি সঙ্কোচবোধ করে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে গিয়ে গোসল করলাম।

এরপর আবার তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখনও সেখানে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, ‘হে আবু হুরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে?’

তখন আমি তাকে আমার ব্যাপারটি বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! মুমিন ব্যক্তি কখনো অপবিত্র হয় না।’ (সহিহ বুখারি)

গোসল ফরজ অবস্থায় জিকির করা যাবে

গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির জন্য আল্লাহর জিকির করা বৈধ। এ বিষয়ে ইমাম জুহরি (রহ.)-এর বক্তব্যও পাওয়া যায়।

মা‘মার (রহ.) বলেন, আমি ইমাম জুহরি (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘যার ওপর গোসল ফরজ, সে কি আল্লাহর জিকির করতে পারবে?’

তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, পারবে।’

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে?’

তিনি বললেন, ‘না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেন, ‘গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তিরা আল্লাহর জিকির করতে পারবে এবং বিসমিল্লাহও পড়তে পারবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

কখন দ্রুত গোসল করা জরুরি?

গোসল ফরজ হলে অযথা বিলম্ব না করে দ্রুত গোসল করে নেওয়া উত্তম। বিশেষ করে গোসল করতে দেরি করার কারণে যদি নামাজের সময় চলে যায়, নামাজের জামাত ছুটে যায় বা কোনো ফরজ-ওয়াজিব আমল বাদ পড়ে যায়, তাহলে তা গুনাহের কারণ হবে।

তবে কোনো ফরজ বা ওয়াজিব আমল ছুটে না গেলে শুধু গোসল ফরজ হওয়ার পর কিছুটা বিলম্ব করার কারণে গুনাহ হবে না।

কোনো অসুবিধার কারণে ফরজ গোসল করতে দেরি হলে অজু করে নেওয়া উত্তম।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ