//নাজমুল হাসান//
পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা আজ (২০ ফেব্রুয়ারি)। রহমতের দশকে পড়া এ জুমা মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে জুমা—সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন; অন্যদিকে রমজান—বরকত, রহমত ও নাজাতের মাস। তাই এ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে ‘সুরা জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো।” (আয়াত ৯-১০)
অন্যদিকে রমজান মাস ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাওবার মাস। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হাদিসে এসেছে, রমজানে একটি নফল ইবাদত ফরজের সমান সওয়াবের অধিকারী হয় এবং একটি ফরজ ইবাদত সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব লাভ করে (বায়হাকি)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা যায়। (সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, মসজিদে গিয়ে কাউকে কষ্ট না দিয়ে নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং খুতবার সময় নীরব থাকে—তার এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি)
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন বান্দা যা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন। তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা অনুসন্ধান করো। (সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসাঈ)
রমজান ও জুমার এ দ্বিগুণ ফজিলতের দিনে বিশেষ আমলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত—
১. পবিত্রতা ও প্রস্তুতি:
জুমার নামাজের আগে ভালোভাবে গোসল করুন, মিসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করুন, সুগন্ধি ব্যবহার করুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করুন।
২. দ্রুত মসজিদে গমন:
আজানের পর বিলম্ব না করে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন। ইমামের খুতবার আগে পৌঁছানো উত্তম। তবে কাউকে কষ্ট দিয়ে কাতার ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
৩. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ:
খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকুন। কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে নিষেধ করাও অনুচিত। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনে বিনয় ও খুশু-খুজুর সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করুন।
রমজানের প্রথম জুমা তাই আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ—আত্মশুদ্ধি, বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের।
এনএইচ/