রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন সোনিয়া গান্ধী!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় টেলিভিশনের পর্দায় দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন ভারতের কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। একই সঙ্গে ভারতে বিজেপি ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে কংগ্রেসের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতারও ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, টেলিভিশনে মসজিদটি ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখে তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল।

সোনিয়া গান্ধী বলেন, ওই ঘটনার পর তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও তাঁদের সহযোগীরা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা রক্ষা করতে দীর্ঘ সংগ্রাম প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকার সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন সময়ে দলটি প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি ও শিথিল অবস্থান নিয়েছিল কংগ্রেস। এই নিষ্ক্রিয়তা বিজেপি এবং দলটির কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।

সোনিয়া গান্ধীর এসব মন্তব্য এসেছে তাঁর আসন্ন বই ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। আগামী ১০ নভেম্বর বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে সোনিয়ার কান্নার দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় কয়েকশ বছরের পুরোনো বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিতর্কে ঘটনাটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে চলেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এসএইচ/  


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ